সামনেই লোকসভা নির্বাচন। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেই এই মুহূর্তে উত্তেজনা তুঙ্গে। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে ভোটের আগে নানান বিষয় নিয়ে কথা বললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্নীতি, দল, দলনেত্রী, নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার, ইন্ডি জোট সমস্ত কিছুই ছিল তাঁর বক্তব্যে। এই সাক্ষাৎকারেই এবার এতদিন পর দুই তৃণমূল নেতা যারা আপাতত জেলবন্দি, সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে নিয়েও এদিন মন্তব্য করেন অভিষেক।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে প্রায় দু’বছর ধরে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে সেই সময় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছিল ইডি। আপাতত পার্থ, অর্পিতা দুজনেই জেলে। অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে এই টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কলঙ্কজনক বলে আখ্যা দিলেন অভিষেক।
অভিষেকের কথায়, পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনা কলঙ্কজনক অধ্যায়। তিনি এও বলেন, পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে দল। মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁকে। তৃণমূলের পদ থেকে পার্থকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানান রদিন অভিষেক।
রাজ্যের আরও এক মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও এখন জেলে বন্দী। রেশন দুর্নীতিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। গত বছর গ্রেফতার হন তিনি। কিন্তু তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হল না? তিনি তো এখন মন্ত্রী পদে বহাল রয়েছেন। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “আজ মন্ত্রী রয়েছেন, কালও যে থাকবেন, তার কী মানে আছে”?
অভিষেকের কথায়, “ইডি বা সিবিআইকে আপনারা ভগবান ভাববেন না। যে তারা কাউকে গ্রেফতার করলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে”। অভিষেক বলেন, রাজ্য পুলিশের এফআইআরের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে জ্যোতিপ্রিয়কে। কেউ যদি দু’পয়সার দুর্নীতিও করেন, তাহলে তাঁকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানান অভিষেক।
তৃণমূল সাংসদের কথায়, “জ্যোতিপ্রিয়ের ক্ষেত্রে আমরা শুনেছি যে, তার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে। তবে এখনও কিছু প্রমাণ করতে পারেনি ইডি। তদন্ত চলছে। আমরা তো চাই, তদন্তে কেউ যদি এতটুকুও দোষী প্রমাণিত হন, তা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হোক”।





