কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে বারবার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। এই নিয়ে দিল্লি যাত্রা, রাজভবনের সামনে ধর্নাও দিয়েছে তৃণমূল শিবির। এবার নতুন পদক্ষেপ তৃণমূলের। ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই জব কার্ড হোল্ডারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি। নিজের বেতন থেকে ‘বঞ্চিত’দের টাকা পাঠালেন তিনি।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে দিল্লি গিয়ে আন্দোলন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের নানান সাংসদ, বিধায়ক, নেতারা। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন একাধিক জব কার্ড হোল্ডার। সেই জব কার্ড হোল্ডারদেরই টাকা পাঠালেন অভিষেক।
ধর্না মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে কেন্দ্র যদি ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে টাকা না পাঠায়, তাহলে নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে সাহায্য করা হবে। ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। সেই ডেডলাইন অর্থাৎ ৩০ নভেম্বরের আগেই আর্থিক সাহায্য করলেন তিনি বঞ্চিতদের। এর পাশাপাশি পাঠানো চিঠিতে এও জানানো হয়েছে যে আগামী দিনে কোন পথে আন্দোলন এগোবে।
কী বলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?
গত অক্টোবরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করেছি ২ বছর ধরে। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানাব, অন্তত এই আড়াই হাজার লোকের ২ বছরের পারিশ্রমিকের টাকা দিয়ে দিক রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার দিতে না পারলে দলের তরফ থেকে বিধায়ক ও সাংসদরা এক মাসের বেতনের টাকা দিয়ে ধাপে ধাপে বকেয়া মেটাব”। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ২ মাসের মধ্যে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেবেন।
সম্প্রতি ওই সব শ্রমিকদের বাড়িতে অভিষেকের চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে চিঠি। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “এইভাবে টাকা দিয়ে ভারতের রাজনীতিতে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন অভিষেক। মানুষ বুঝবে তৃণমূল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় না”।
অন্যদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের দাবী, “এই চিঠি থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে গত কয়েক বছরে তৃণমূলের কোনও সাংসদ লোকসভায় ১০০ দিনের কাজের টাকা গিয়ে সরব হননি”।





