‘টাকা নিয়ে সেটিং, ধর্মে ধর্মে বিভাজন সৃষ্টি করছে’, নওশাদকেই কী নিশানা অভিষেকের? ডায়মন্ড হারবারে ত্রিফলা জোটের জল্পনা সত্যি?

বছর গড়ালেই লোকসভা নির্বাচন। এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে নানান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। এই লোকসভা নির্বাচনে অন্যতম হেভিওয়েট কেন্দ্র হল ডায়মন্ড হারবার। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কে লড়বেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এরই মধ্যে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেছেন যে তিনি ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী দিতে ইচ্ছুক। আর তাঁকে সমর্থন করেছে রাজ্যের বাকি বিরোধী দল। এবার এই নিয়েই মুখ খুললেন অভিষেক।

ডায়মন্ড হারবার মডেল বেশ আলোচিত। সেখানকার জনগণের সমর্থন রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এলাকাবাসীরাও স্বীকার করেছেন যে অভিষেক সাংসদ হওয়ার পর থেকেই তাদের এলাকায় উন্নতি হয়েছে। ফলে সেখানে অভিষেককে হারাতে বেশ বেগ পেতে হবে বিরোধীদের। সেই কারণেই এবার বঙ্গ রাজনীতিতে ত্রিফলা জোটের আভাস মিলছে। লোকসভা নির্বাচনে অভিষেকের বিরুদ্ধে লড়তে পারেন নওশাদ সিদ্দিকি। আর তাঁকে সমর্থন করবে বাম, বিজেপি, কংগ্রেস, এমনটাই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে।

কী বলেন অভিষেক?

আজ, শুক্রবার ফলতায় এক বস্ত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নাম না করেই তিনি নওশাদকে নানানভাবে তোপ দাগতে থাকেন। বলেন, “শুনছি কেউ কেউ চাইছেন ডায়মন্ড হারবার থেকে দাঁড়াতে। সে দাঁড়াক। গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেও দাঁড়াতে পারে। এটা তো গণতন্ত্র। শুধু আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ৩ লক্ষ ২১ হাজার এর ব্যবধান এবার চার লক্ষে নিয়ে যান। ফলতার ব্যবধান এবার ৪৫০০০ থেকে ৭০ হাজার করতে হবে আপনাদেরই। ওরা যেই দাঁড়াক, ভোকাট্টা হয়ে যাবে, উড়ে যাবে। টাকা নিয়ে সেটিং, ধর্মে ধর্মে বিভেদ তৈরি করা একজন জনপ্রতিনিধির কাজ নয়। তাঁদের কাজ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমি যতদিন আছি, এখানে কোনওদিন সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেব না”।

এদিন সিপিএম ও বিজেপিকে এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “যারা সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেককে হারাতে চেয়েছিল, তাদের কী করুণ পরিণতি দেখুন। তাদের নামও আজ কেউ মুখে আনে না”।

অভিষেকের দাবী, কয়লা কাণ্ডে তাঁর কিছু করতে পারে নি বলে এখন তাঁর পরিবারকেও হেনস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “অভিষেক বলেন, “আমি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে যে কথা বলেছি সেই অবস্থানে আমি অনড়। তিন বছর হয়েছে। ৩৬ মাস পরেও আমি একই কথা বলছি। তখন কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে আপনারা বড় বড় ভাষণ দিতেন আর বলতেন অভিষেক বন্দ্যোপধ্যায় যুক্ত। সেই কয়লা কেলেঙ্কারি বা তদন্তে সুপ্রিম কোর্ট আমাকে প্রটেকশন দিয়েছে। কয়লাকাণ্ডে যেহেতু আপনি কিছু করতে পারছেন না, সে কারণেই এসএসসি বা প্রাইমারি নিয়োগ কেসে অভিষেককে ডাকো, তাঁর মা-কে ডাকো, বাবা-কে ডাকো”।

RELATED Articles