বিগত কয়েকদিন ধরেই চলছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব বনাম অনুপম হাজরার লড়াই। এই নিয়ে এখন রাজনীতি তুঙ্গে। দলের রাজ্য নেতৃত্বকে যেভাবে আক্রমণ করছেন অনুপম, তাতে দল বেশ অস্বস্তিতে। এবার অনুপমের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ল বীরভূমের শান্তিনিকেতনে। অনুপমের নিজের শহর বোলপুরে এমন পোস্টার পড়ায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কারা দিল এমন পোস্টার?
জানা গিয়েছে, বিজেপির আদি কর্মীরাই অনুপম হাজরার বিরুদ্ধে এই পোস্টার দিয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকেই শান্তিনিকেতনের চারিদিকে ছেয়ে গিয়েছে এই পোস্টারে। অনুব্রত ও অনুপমের একটি ছবি ব্যবহার করে সেই পোস্টারে লেখা হয়েছে, “অকালকুষ্মাণ্ড অনুপম হটাও, বিজেপি বাঁচাও”। আবার কোনও পোস্টারে লেখা, “সেটিংবাজ অনুপমকে বিজেপি থেকে বহিষ্কার করা হোক”।

কেন এমন পোস্টার?
আসলে গত বুধবার বীরভূমের খয়রাশোলে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল অনুপম হাজরার। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের অস্থায়ী মঞ্চ ভাঙচুর করে একদল দুষ্কৃতী। বীরভূমের জেলা সভাপতির লেঠেল বাহিনীই এই ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন অনুপম।
এমনকি, এও অভিযোগ ওঠে যে অনুপমের উপর প্রাণঘাতী হামলাও করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন বিধায়ক অনুপ সাহা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ধ্রুব সাহা, এমনটাই অভিযোগ করেন অনুপম। শুধু তাই-ই নয়, এদিন খয়রাশোলের ওই সভায় যাওয়ার সময় ফেসবুক লাইভে অনুপম বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধেও নানান ক্ষোভ উগড়ে দেন। এরপরই আজ, শুক্রবার শান্তিনিকেতনে অনুপমের বিরুদ্ধে পড়ল পোস্টার। ফলে এই নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
কী প্রতিক্রিয়া অনুপমের?
এই পোস্টার প্রসঙ্গে অনুপম বলেন, “অনেক বিজেপি নেতার তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং আছে। আমি সেটাই বলেছিলাম। চোরমুক্ত বিজেপি তৈরি করার চেষ্টা করেছি। তাতে অনেকের সমস্যা হয়েছে। সেই কারণেই রাতের অন্ধকারে আমার বিরুদ্ধে পোস্টার ফেলা হয়েছে”।
এই প্রসঙ্গে বীরভূম জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “ওনার বিরুদ্ধে যত কম কথা বলা যায় ততই ভাল। বিগত কয়েকদিনে উনি অনুব্রত মণ্ডলের আর্শীবাদে একবারই পার্লামেন্টে যেতে পেরেছিলেন। এরপর আর যেতে পারবেন বলে মনে হয় না। এখন শুনছি পোস্টার পড়েছে। তাই এখন বিজেপি-কেই চিন্তা করতে হবে এই জেলায় বিজেপি পার্টিকে রাখবে নাকি রাখবে না”।





