‘১২-তে লালনের মৃত্যু, ১৪-তে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু, ২১-এ কী আরও মর্মান্তিক কিছু অপেক্ষা করছে’?, আসানসোল কাণ্ডে শুভেন্দুকে খোঁচা অভিষেকের

গতকাল, বুধবার আসানসোলে (Asansol) আয়োজিত হয় ‘শিবচর্চা’ নামের এক কর্মসূচি যার উদ্যোক্তা ছিলেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির (Jitendra Tiwari) স্ত্রী চৈতালি তিওয়ারি। এই অনুষ্ঠানে ভাষণ শেষে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) প্রতীকী হিসেবে কিছু কম্বল বিতরণ করে চলে যান। এদিন ৫ হাজার কম্বল বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু সেই হাজার হাজার মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সেভাবে ব্যবস্থা না নেওয়ায় শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। আর এর জেরে পদপিষ্ট (stampede) হয়ে মৃত্যু হয় তিনজনের। এই ঘটনায় এবার শুভেন্দুকে কটাক্ষ শানালেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।  

শুভেন্দুকে খোঁচা দিয়ে টুইট করে অভিষেক বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী ১২ তারিখ, ১৪ তারিখ ও ২১ তারিখ আমাদের ‘ডিসেম্বর ধামাকার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ১২ তারিখ সিবিআই হেফাজতে লালন শেখের মৃত্যু হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর আসানসোলে তাঁর কারণে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য তিন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২১ ডিসেম্বর কি তাহলে আরও মর্মান্তিক কিছু অপেক্ষা করছে”।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর আসানসোলের সভায় যেভাবে তিনজন নিরপরাধ মানুষের পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে, তা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। শুভেন্দু অধিকারী ১২ তারিখ একটি কথা বললেন, তারপর সিবিআই হেফাজতে লালনের মৃত্যু। এবার ১৪ তারিখ তিন নিরপরাধ লোক মারা গেল। গরিব মানুষকে কম্বল দেবে বলে ডেকে একটি ছোট জায়গায় বিশৃঙ্খল আচারণ। প্রশ্ন হচ্ছে এর জন্য দায়ী কে? পুলিশের অনুমতি না নিয়ে বেআইনি সভা। যদি পুলিশের অনুমতি নেওয়া হত, তাহলে সেখানে পুলিশকর্মীরা থাকতেন। তাহলে এই দুর্ঘটনাটি হয়ত ঘটত না”।

তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই ঘটনায় বিজেপিকে তোপ দেগে বলেন, “আসানসোলে শুভেন্দু অধিকারীর সভায় পদপিষ্ট হয়ে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। আইন ভেঙে সভা করা অপরাধ, তাহলে বিজেপি কীভাবে এই ক্ষমতা পায়”?

শুধুমাত্র তৃণমূল নেতা-নেত্রীরাই নন, আসানসোলের এই ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেছেন খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষও। তাঁর কথায়, “পুলিশের উপর ভরসা করে এই ধরনের অনুষ্ঠান করা ঠিক না। আরও প্রস্তুতি প্রযোজন ছিল। এ রাজ্যের মানুষ কিছু পাবে শুনলে দৌড়ায়। লক্ষীর ভাণ্ডারেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। দান খয়রাতি মানবতার অপমান। কিছু পাওয়ার লোভ দেখিয়ে মানুষকে টেনে আনা আমি সমর্থন করি না। গরিবকে সাহায্য করার অন্য নানারকম উপায় আছে”।

RELATED Articles