নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু কের নানান দুর্নীতির ঘটনায় আপাতত জেলবন্দি শাসক দলের একাধিক নেতারা। কয়লা পাচার কাণ্ড বা নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এর আগে একাধিকবার তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বারবারই ইডি বা সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। তৃণমূলের মতে, ইডি বা সিবিআই বিজেপির হয়ে কাজ করছে। এবার নির্বাচনী সভা থেকে ফের একবার ইডি-সিবিআইকে একহাত নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড।
আজ, বুধবার বসিরহাটে সভা করেন অভিষেক। সন্দেশখালি কাণ্ডের পর এদিন প্রথম বসিরহাটে যান তিনি। গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়ি তল্লাশিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল ইডিকে। এরপর থেকেই পলাতক ছিলেন শাহজাহান। এরপরই সন্দেশখালির মহিলারা শাহজাহান ও তাঁর সাগরেদদের বিরুদ্ধে জমি বাড়ি দখল, নারী নির্যাতন, শ্লী’ল’তা’হা’নির অভিযোগ তোলেন।
এই ঘটনায় প্রথমেই গ্রেফতার করা হয়েছিল শাহজাহানের দুই সাগরেদ উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরাকে। এরপর ৫৫ দিন পলাতক থাকার পর গ্রেফতার হন শাহজাহান। এদিন বসিরহাটে সভায় গিয়ে যে অভিষেকের বক্তব্যে যে শাহজাহানের গ্রেফতারির প্রসঙ্গ উঠবেই, তা জানাই ছিল। আর হলও তেমন। এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইডি-সিবিআইকেও কটাক্ষ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী বলেছেন অভিষেক?
এদিন সভা থেকে তৃণমূল নেতা বললেন, “শেখ শাহজাহানকে ইডি, সিবিআই গ্রেফতার করেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ করেছে। সুদীপ্ত সেনকে ইডি, সিবিআই গ্রেফতার করেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ করেছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে তৃণমূল। সিপিএম, বিজেপির একটা নেতা গ্রেফতার হয়েছে? ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ করেছেন কুস্তিগিররা, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে? বড় বড় পদ দিয়ে বসিয়ে রেখেছে”।
এদিন অভিষেকের বক্তব্যে উঠে আসে শিবু, উত্তমদের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “উত্তম সর্দার, শিবু হাজরাকে গ্রেফতারের পর ১৫ দিন হয়ে গিয়েছে। সিবিআই হেফাজতে নেওয়ার আবেদনই করেনি। নারী নির্যাতন রোখা ওদের লক্ষ্য নয়। লক্ষ্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার করা। আমি আজ বলে দিলাম ৪দিন পর হয়তো ওদের হেফাজতে চাইবে। নাটক করবে। বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে অশুভ শক্তি কাজ করছে। ইডি-সিবিআই কাঁচকলা করেছে। আর বাংলার মানুষের কাঁচকলা করবে”।
এরই সঙ্গে এদিন তিনি শানান বিজেপিকেও। কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বিজেপিকে তাঁর সঙ্গে মুখোমুখি তর্কে বসে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে বলেছিলেন অভিষেক। যদিও বিজেপির কেউ তা করে নি। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন অভিষেক বললেন, “আমি আমার রিপোর্ট কার্ড দিচ্ছি। বিজেপির উচিত ওদের রিপোর্ট কার্ড দেওয়া। যারা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারে না, তাদের গ্যারান্টির কী দাম”?






