থাইল্যান্ডের নাগরিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পত্নী রুজিরার নথিতে কি একাধিক পরিচয়ের ইঙ্গিত? বাবার নামের অসঙ্গতি থেকে PAN বিতর্কে ফের চর্চার কেন্দ্রে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির স্ত্রী রুজিরা নারুলা (Rujira Narula Banerjee) কে ঘিরে ফের নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। মূলত তাঁর বিভিন্ন সরকারি নথিতে বাবার নাম নিয়ে অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এর সঙ্গে জুড়ে রয়েছে OCI কার্ড, PAN কার্ড এবং সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত পুরনো অভিযোগও। ফলে বিরোধীরা এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে, অন্যদিকে তৃণমূল শিবির বরাবরের মতোই এই অভিযোগগুলিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।

রুজিরা নারুলা থাইল্যান্ডের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানেই বসবাস করেছেন। ২০১০ সালে ব্যাংককের ভারতীয় দূতাবাস থেকে তিনি পার্সন অফ ইন্ডিয়ান অরিজিন বা PIO কার্ড পান। সেই নথিতে তাঁর বাবার নাম উল্লেখ ছিল নিফন নারুলা। কিন্তু পরে PIO কার্ডকে OCI কার্ডে রূপান্তরের সময় জমা দেওয়া বিয়ের শংসাপত্রে বাবার নাম হিসেবে গুরচরণ সিং আহুজার উল্লেখ পাওয়া যায়। এই দুই আলাদা নাম ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিষয়টি খতিয়ে দেখে ২০১৯ সালে তাঁকে শো-কজ নোটিশ পাঠায়। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়, কীভাবে সরকারি নথিতে বাবার নাম আলাদা হল এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না।

শুধু তাই নয়, PAN কার্ড তৈরির ক্ষেত্রেও একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, থাই নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও রুজিরা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত ফর্ম ৪৯A ব্যবহার করেছিলেন। অথচ বিদেশি নাগরিকদের জন্য আলাদা ফর্ম ৪৯AA ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে। আরও অভিযোগ, আয়কর দফতরের নথিতে রুজিরা ব্যানার্জি এবং রুজিরা নারুলা নামে দুটি পৃথক PAN নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়। এই বিষয়গুলি সামনে আসতেই বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কি নিয়ম ভাঙা হয়েছিল? যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয় এবং বলা হয়, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ভুলকে ইচ্ছাকৃতভাবে বড় করে দেখানো হচ্ছে।

এর আগেও ২০১৯ সালের মার্চ মাসে কলকাতা বিমানবন্দরে রুজিরা এবং তাঁর বোন মেনকা গম্ভিরকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের লাগেজ থেকে প্রায় ২ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে, যা কাস্টমসে ঘোষণা করা হয়নি। যদিও অভিষেক ব্যানার্জি স্পষ্টভাবে দাবি করেছিলেন, তাঁর স্ত্রী কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এবং গোটা ঘটনাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। পরে এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট রুজিরাকে আইনি সুরক্ষা দেয়। কিন্তু তারপরও কয়লা পাচার মামলায় সিবিআই এবং ইডির তরফে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। ফলে তাঁর নাম বারবার বিভিন্ন তদন্তের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ অরুপ রায় ঘনিষ্ঠ TMC নেতার বাড়িতে গোপন সুড়ঙ্গ থেকে বিলাসবহুল ‘রাজপ্রাসাদ’! শিবপুরে পুলিশের তল্লাশিতে কী কী গোপন তথ্য পাওয়া গেল, কার ছত্রছায়াতেই বা চলছিল এই রহস্যময় সাম্রাজ্য?

২০১২ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের সময়ই তাঁদের বিয়ে হয়। এরপর থেকেই রুজিরা কার্যত বাংলার রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। বিরোধীদের একাংশের দাবি, তৃণমূলের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণেই নানা বিতর্কের পরও তিনি প্রশাসনিক সুবিধা পেয়েছেন। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছে। তবে নাগরিকত্ব আইন, বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর