শ্রাদ্ধবাড়িতে খেয়ে অসুস্থ শ’য়ে শ’য়ে গ্রামবাসী, পেট ব্যাথা বমি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশু-সহ ১৫০

খাবারে বিষক্রিয়া তাও আবার নিমন্ত্রণ বাড়ির খাবারে। ভাবুন একটা নেমন্তন্ন বাড়িতে কত লোক আসতে পারে। আর সেই খাবারই যদি হয় বিষক্রিয়া। কি করে আগে থেকে বুঝবে কেউ। বোঝার কোন উপায় নেই। পরিবর্তন হয়নি কোন খাবারের স্বাদেও। এদিকে খাবার খেয়ে বাড়ি ফিরতে অসুস্থ হতে শুরু করে একের পর একজন‌। প্রথমে দু-একজন, তারপর একের পর এক গ্রাম থেকে খবরটা আসতে শুরু করে। সকলেরই বমি, পেট খারাপ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী খাবারের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হওয়ার সংখ্যা ১৫০ গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার অন্তর্গত সংড়া পঞ্চায়েতের পাগলাডাঙ্গা গ্রামে। 

সূত্রের খবর, এলাকারই এক মহিলার শ্রাদ্ধের কাজে গিয়েছিলেন মৃতদাসপুর, কামারশাল ও পাগলাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দারা। সেখানেই মুড়ি, বোঁদে খান। তারপর বাড়ি যেতেই এই কাণ্ড। শুধুমাত্র মুড়ি বা পড়ে থেকে কিভাবে বিষক্রিয়া হতে পারে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই বিষক্রিয়া থেকে বাদ যাননি শিশুরাও। একের পর এক পাড়া থেকে লাগাতার অসুস্থ হওয়ার খবর আসতে থাকে। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। সন্ধ্যা থেকেই বমি, পায়খানা শুরু হয়ে যায় আশপাশের গ্রামের বহু শিশুর।

 প্রায় ৮৫ জনের একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে চল্লিশের বেশি শিশু। তবে অসুস্থ লোকজনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অনেককেই ভর্তি করা হয়েছে সিউড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। খবর পেয়ে হাসপাতালে যান প্রশাসনের কর্তারা। রোগী ও রোগীর পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক বিশ্বজিৎ মোদক, মহকুমা শাসক সুপ্রতীক সিনহা, সাঁইথিয়া ব্লকের বিডিও, সাঁইথিয়া থানার ওসি, সিউড়ি থানার আইসি সহ অন্যান্যরা। 

অতিরিক্ত জেলাশাসক বিশ্বজিৎ মোদক মনে করছেন, খাবারে বিষক্রিয়া থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “যে খাবার ওনারাকে খেয়েছিলেন তাতে বিষক্রিয়া থেকেই এটা হয়ে থাকতে পারে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। তবে আসল কারণটা কী তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগেও রাজনগরে এরকম ঘটনা ঘটেছে। তবে এতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। রোগীদের জন্য স্যালাইন সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেকেই এখন স্থিতিশীল রয়েছেন।”

আরও অন্যান্য খবর