দল ছাড়লেন তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতা, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

ফের ভাঙন ঘাসফুলে! বছরের শুরুতেই ফের দল ছাড়লেন এক প্রভাবশালী নেতা। গতকাল সোমবার, পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন নীলমাধব দাস। অঞ্চলে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে তিনি বিশেষ পরিচিত। জানা গিয়েছে, তিনি শুধু সভাপতির পদ থেকেই ইস্তফা দেন নি, এর সঙ্গে তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্য পদও ছেড়েছেন।

এদিন দল থেকে পদত্যাগ করে তিনি তৃণমূল কর্মীদের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন। দলকে আক্রমণ করে নীলমাধব দাস বলেন, “অনেকদিন ধরে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। দলের কর্মীদের বলা সত্ত্বেও কারোর থেকে কোনও সাহায্য পাইনি। এই কারণেই দলত্যাগ করতে বাধ্য হলাম”। অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, অনেক দলীয় সভা থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তিনি জানতেও পারেননি। কেউ ওঁকে জানানোর প্রয়োজনই মনে করতেন না।

তবে ঘাসফুল ছেড়ে তিনি পদ্মফুলে ঘাঁটি গাড়বেন কী না, এ বিষয়ে স্পষ্ট করে এখনই কিছু বলেননি নীলমাধব দাস। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর জবাব, তিনি এখনও পর্যন্ত কোনও দলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নি। তাঁর কথায়, তিনি আগে সব পদ ছাড়বেন, তারপরই স্থির করবেন, কোনও দলে যাবেন কী না। তবে তিনি স্পষ্ট করে কিছুনা বললেও, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ধোঁয়াশা কিন্তু জিইয়ে রাখলেন নীলমাধব দাস।

উল্লেখ্য, শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিজেপিতে গিয়েছেন শুভেন্দুর ভাই সৌমেন্দু অধিকারীও। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পূর্ব মেদিনীপুরে বেশ কয়েকটি সভা করেছে শুভেন্দু। চ্যালেঞ্জ করেছেন যে দুই মেদিনীপুর থেকে বিজেপি ৩৫টি আসনে জয়ী হবে। তাছাড়া, তিনি এও বলেছেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে প্রত্যেক বছর স্কুল কমিশন পরীক্ষা হবে ও চাকরিও হবে। এমনকি, টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের চাকরির আশ্বাসও দিয়েছেন শুভেন্দু। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জয়ের জন্য বেশ আটঘাট বেঁধেই নেমেছে বিজেপি।

RELATED Articles