সিউড়িতে ফের অনুব্রত রাজ! দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় ভরা সভায় অপমানের সাক্ষী হলেন দলের এক মহিলা কর্মী। অভিযোগের তীর বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) এর দিকে। ঘটনাস্থল সেই সিউড়ি (Suri) যেখানে রাস্তা খারাপের অভিযোগ করায় বুথ সভাপতিকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন কেষ্টদা তথা অনুব্রত মণ্ডল!
শুক্রবার সিউড়ির ১ নং ব্লকে নগরী অঞ্চলের কর্মীসভায় এক মহিলা তৃণমূল কর্মী (Female TMC member) সবে মাইকে বলতে শুরু করেছিলেন, তিনি আদিবাসী বলে তাকে পঞ্চায়েতের সবাই অসম্মান করে, তাঁর কোনো কথা শোনা হয় না।” এটুকু বলতে না বলতেই অনুব্রতর নির্দেশে তার কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়। এরপরই হতভম্ব হয়ে যান ওই মহিলা এবং পরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। গোটা ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই বিরুদ্ধে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন সকলেই।
এর আগেও ৩রা সেপ্টেম্বর আরেকটি কর্মীসভায় অভিযোগ জানানোর সময় হঠাৎ করে মাইক কেড়ে নেওয়া হয় এক তৃণমূল কর্মীর কাছ থেকে। তার আগের দিন সিউড়ির ২ নং ব্লকে গণেশ রায় নামে তৃণমূলের এক বুথ সভাপতি যখন রাস্তা নিয়ে অভিযোগ জানাতে যান তখন তাকে ভরা সভায় রীতিমত অপমান করেন অনুব্রত বাবু। এমনকি রেগে গিয়ে ওই বুথ সভাপতিকে পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়ে বসেন। যদিও গণেশ বাবু নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত গণেশ বাবুর অনুগামীদের চাপে পড়ে ওই নির্দেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন অনুব্রত মণ্ডল।
যেভাবে একের পর এক কর্মীসভায় নিচু স্তরের তৃণমূল কর্মীদের অপমান করে যাচ্ছেন অনুব্রত মণ্ডল তাতে দলের একাংশ তার ওপর রীতিমতো ক্ষিপ্ত। কারণ আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে এই নিচুস্তরের কর্মীরা অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন তাই তাদেরকে অসন্তুষ্ট করা মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মারা। তাই দলের অন্দরেই অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে জমছে ক্ষোভ। বারংবার এই ঘটনাগুলি সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা প্রকাশ্যে চলে আসায় রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়ছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এখন অনুব্রতর বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয় কিনা সেটাই দেখার।





