নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় মৃতদেহ সংরক্ষণের দাবী অগ্নিমিত্রার, তৃণমূল সাংসদকে দেখেই উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, রণক্ষেত্র জয়নগর

আর জি করের ঘটনায় আবহেই রাজ্যে ফের এক ধর্ষণ-খুনের ঘটনা। জয়নগরে চতুর্থ শ্রেণীর নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় এই মুহূর্তে উত্তপ্ত এলাকা। রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। মৃতদেহ সংরক্ষণের দাবী তোলেন তিনি। তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল ঘটনাস্থলে গেলে, তাঁকে দেখেই উঠতে থাকে গো ব্যাক স্লোগান।

জয়নগরের নাবালিকা ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনা এদিন সকালে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বামেরা। দুপুরে এলাকায় পৌঁছন অগ্নিমিত্রা পাল ও  বিজেপি কর্মীরা। এর কিছুক্ষণ পরই এলাকায় আসেন তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল এবং তাঁর দলের কর্মীরা। হাসপাতালের সামনেই বচসায় জড়ান অগ্নিমিত্রা ও প্রতিমা। অগ্নিমিত্রাকে প্রতিমা কিছু বোঝানোর চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হয়নি। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। 

এদিন অগ্নিমিত্রা তৃণমূল সাংসদকে বলেন, “আপনি এখানকার সাংসদ। আপনাকে জবাব দিতে হবে। বাবা-মা বারবার থানায় যাওয়ার পরও কোনও পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। কেন”? তৃণমূল সাংসদ বলেন, “আমি একটু মৃতের বাবা-মার সঙ্গে কথা বলতে চাই”।

জবাবে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আমরা চাই ওই নাবালিকার মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হোক। কোনও নিরপেক্ষ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত করা হোক”। তখন তৃণমূল সাংসদ বলেন, “আপনি কী চাইছেন, সেটা বড় কথা নয়। ওই নাবালিকার বাবা-মা কী চাইছেন, সেটা জানা দরকার। কারণ, পরে বাবা-মা হয়ত বলবেন, আমরা এটা চাইনি”।

ঘটনাস্থলে ছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কনীনিকা ঘোষরা। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া চেষ্টা হলে তারা আটকান। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান তারা। তাদের কথায়, আর একটা আর জি কর হতে দেওয়া যাবে না।

প্রসঙ্গত, গতকাল, শুক্রবার টিউশন পড়তে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরোয় চতুর্থ শ্রেণীর ওই নাবালিকা। কিন্তু সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত হয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় দুশ্চিন্তা করতে থাকেন পরিবারের লোকজন। জয়নগর থানায় যান ওই নাবালিকার বাবা।

তিনি মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ লেখাতে চান থানাতে। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশসেই সময় অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। থানা থেকে ফিরে আসেন অসহায় বাবা। এরপর গভীর রাতে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে এক জলাভূমি থেকে উদ্ধার হয় ওই ছাত্রীর নিথর দেহ। জানা গিয়েছে, একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল ছাত্রীর শরীরে। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবী, ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ধর্মতলা থেকে ধর্না তুলতে পুলিশের শাসানি জুনিয়র চিকিৎসকদের, লালবাজার থেকে পাঠানো হল ইমেল

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করে। তবে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবী, পুলিশ যদি আগেই তৎপর হত, তাহলে ছাত্রীকে খুন হতে হত না। ঝাঁটা হাতে পুলিশকে ধাওয়া করেন তারা। পুলিশকে একপ্রস্থ ঝাঁটাপেটাও করা হয় বলে খবর। স্থানীয়রা ফাঁড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন।

RELATED Articles