‘চাষের ক্ষতির কারণে এ রাজ্যে কোনও কৃষক আ’ত্ম’ঘা’তী হন নি, বিজেপি অপপ্রচার করছে’, ৩ দিনে ৩ কৃষকের আ’ত্ম’হ’ত্যার পর বললেন কৃষিমন্ত্রী

অকাল বৃষ্টির কারণে রাজ্যের চাষবাসে খুব ক্ষতি হয়েছে। জমিতেই পচে গিয়েছে ফসল। আলুর চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, চাষে ক্ষতির কারণে রাজ্যে কৃষকের আ’ত্ম’হ’ত্যার কোনও ঘটনা ঘটেনি। সবটাই নাকি বিজেপি অপপ্রচার চালাচ্ছে।   

কী বলেন কৃষিমন্ত্রী?

গতকাল, সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজ‌্য সরকার যে পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা কৃষকদের জন‌্য রেখেছে, তাতে কোনও কৃষক আত্মঘাতী হওয়ার কথা নয়। বিজেপি যেহেতু কৃষি আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই আত্মহত‌্যার ঘটনা ঘটলে সেটাকে ম‌্যানুপুলেট করার চেষ্টা করছে”। একই সঙ্গে কৃষকদের সার দেওয়ার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে কীভাবে বঞ্চনা করছে সে পরিসংখ‌্যানও তুলে ধরেন মন্ত্রী।

মন্ত্রীর কথায়, “আমরা রবিশস্যের সময় ৬.৭২ লাখ টন সার (১০-২৬-২৬ এটি বিশেষ ধরনের সার) চেয়েছিলাম। কেন্দ্র ২২-২৩ অর্থবর্ষে সার দিয়েছে ৭৯,৯০০ মেট্রিক টন। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে চাষিদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। ২০-২১ সালে তাও ৪.৫০ লক্ষ মেট্রিক টন সার দিয়েছিল কেন্দ্র, সেখানে বছর বছর তা কমছে”।

অকাল বৃষ্টির কারণে চাষে বেশ ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে গত ৩ দিনে ৩ কৃষকের আ’ত্ম’হ’ত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। তাদের পরিবারের দাবী, অকাল বৃষ্টির আগে ঋণ নিয়ে জমিতে আলুর বীজ বসিয়েছিলেন চাষিরা। কিন্তু বৃষ্টিতে সেই বীজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তারা। সেই কারণেই এমন চরম পরিণতি। তবে এদিন কৃষিমন্ত্রী সাফ জানান যে পারিবারিক সমস্যার কারণেই আ’ত্ম’ঘা’তী হয়েছেন ওই কৃষকরা।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এরাজ্যে কৃষকবন্ধু নতুন প্রকল্পে ১ কোটি ১ লক্ষ ৪০ হাজার কৃষক অন্তুর্ভুক্ত হয়েছেন। তাতে ভাগচাষিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যে সমস্ত চাষি শস‌্যবিমার আওতাধীন। ফলে শস্যের ক্ষতি হলে কৃষকরা বিমার টাকা পেয়ে যান। কোনও কৃষক মারা গেলে সরকারিভাবে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়াও পেনশনের ব্যবস্থা রয়েছে। ৬০ বছর বয়স হলেই কৃষকরা ১ হাজার টাকা পেনশন পান। এছাড়াও কৃষক বন্ধু প্রকল্প থেকে কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার ও সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা সাহায্য করা হয়। এত কিছু সাহায্য থেকেই পরিষ্কার, এ রাজ্যে কৃষক আত্মহত্যার কোনও ঘটনা নেই”।

২০১৯ সাল থেকে কৃষকদের শস‌্যবিমা শুরু হয়েছে। এই বিমা বাবদ সরকার কত টাকা জমা দিয়েছে, আর কত টাকা কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, এদিন সেই তথ‌্য তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “২০১৯ সালে রাজ‌্য সরকার প্রিমিয়াম দিয়েছে ৫৪২৭.৩৫ কোটি টাকা। আর চাষিরা ফসলের ক্ষতি বাবদ পেয়েছেন ২৭২৬ কোটি টাকা”।

স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হলে সে টাকা সরকার দিয়ে দেয় বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। এবার প্রয়োজনে রবি ও খরিফ শস্যে পুরনো যে বিমার দিন তা বাড়ানো হতে পারে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কৃষিতে আমরা এগিয়ে। কৃষকদের আয় তিনগুণ বৃদ্ধি হয়েছে। কৃষিজীবীদের আয়ের ক্ষেত্রে আমরা সেরা। তাই বিজেপি বদনাম করতে নেমে পড়েছে। কৃষকদের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে”।

RELATED Articles