রবিবার সকাল থেকেই অ্যাকশন মোডে সিবিআই। একসঙ্গে শহরের ১৫ জায়গায় হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তল্লাশি চলছে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ সহ তাঁর ঘনিষ্ঠ ফরেনসিক মেডিসিনের চিকিৎসক দেবাশিস সোম ও আর জি করের প্রাক্তন সুপার সঞ্জয় বশিষ্ঠের বাড়িও। এই সিবিআই হানা নিয়েই এবার মুখ খুললেন আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি।
আখতার আলিই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর জি করে নানান দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল। আর্থিক দুর্নীতির মামলা রুজু হয়। এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন আগেই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিরোধী ব্যুরো, ভিজিল্যান্স কমিশন এবং স্বাস্থ্যভবনে অভিযোগ করেছিলেন আখতার আলি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনার পর সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান আখতার আলি।
রবিবার সন্দী ঘোষের বাড়ি সিবিআই হানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা খুব ভাল পদক্ষেপ করেছে সিবিআই। র্যাপিড অ্যাকশন নিয়েছে। অনেক বেশি সময় দিলে প্রমাণ লোপট করে দিতে পারত। কারণেই এই দ্রুত তদন্তের প্রয়োজন ছিল। আমি শুরু থেকেই বলছিলাম ওখানে যে চক্র আছে সেটা না ভাঙলে ছাত্রদের মুক্ত করা যাবে না। আমি চাই এদের পর্দা ফাঁস হোক। দোষীদের শাস্তি হোক”।
আখতার আলি জানান, “নিজের দুর্নীতির রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে সন্দীপ ঘোষ হাসপাতালটাকে শুড়ি খানা বানিয়ে ছিলেন। হাসপাতালের গেস্ট হাউসে ছাত্রদের মদ্যপান করাতেন। হাসপাতালের যে কোনও কাজের টেন্ডারে ২০ শতাংশ করে নিতেন। এমনকী ক্যান্টিন, স্টল, সুলভ শৌচালয়গুলিকে টাকার বিনিময়ে অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন”।
নানান দুর্নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে আখতার আলি বলেন, “একদিন অন্তর হাসপাতালের ব্যবহার হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রবার গ্লাভস, হ্যান্ড গ্লাভস- সহ বিভিন্ন বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য মিলিয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি মাল বেরোত। এগুলোতেও দুর্নীতি করতেন সন্দীপ ঘোষ। একটা ব়্যাকেট বানিয়ে নিয়েছিলেন, তাতে যুক্ত ছিলেন দু’জন বাংলাদেশিও। তাঁরা এখান থেকে মালগুলো বাংলাদেশে নিয়ে যেত রিসাইকেল করার জন্য”।
এদিন দেবাশিস সোমের বাড়িও হানা দিয়েছে সিবিআই। সেই দেবাশিস সোম সম্পর্কে আখতার আলি বললেন, “দেবাশিস সোমের নাম আমি এক বছর আগে সামনে এনেছিলাম। উনি সরকারের কাছ থেকে মাইনে নিলেও সন্দীপ ঘোষের লোক হয়ে কাজ করতেন। উনিই সন্দীপের ডান হাত। ফরেন্সিক মেডিসিনের মর্গের কাজ না করে ওনাকে অফিস দেওয়া হয়েছিল প্ল্য়াটিনাম জুবিলি বিল্ডিংয়ে। লোকজন, এসি চেম্বার সব দেওয়া হয়। ছাত্রদের ফেল করানো, টাকা পয়সা তোলার কেসে উনি জড়িত। মাঝেমাঝেই বিদেশে ঘুরতে যেতেন। সন্দীপ ঘোষের বেআইনি কাজের প্রমাণ লোপাটে সাহায্য করতে সব সময়”।





