আলাপনকে যে এত সহজে কেন্দ্র ছাড়বে না তার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মুখ্য সচিবকে প্রধানমন্ত্রীর রিভিউ মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণ দাখিল করতে বলা হয়েছিল। সময় দেওয়া হয়েছিল তিনদিন। অবশেষে শেষদিনে জবাব দিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় l
কেন্দ্রের শোকজ-এর জবাবে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামক এক চূড়ান্ত দক্ষ রাজনীতিককে বর্ম হিসেবে পড়ে নামলেন। সোজা জবাব দিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল, তাই বৈঠক থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম।
ঘূর্ণিঝড় যশ পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে প্রথমে থাকবেন বলে সম্মতি জানালেও পরে তা কৌশলে এড়িয়ে যান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গেই এই বৈঠকে যোগ দেননি মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৫ মিনিটের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দিঘার পথে উড়ে যান মমতা-আলাপন। আর এর ফল হিসেবেই খাড়া নেমে আসে আলাপনের ওপর। তিন মাসের জন্য মুখ্য সচিব পদের মেয়াদ বৃদ্ধি হলেও তাঁকে তড়িঘড়ি দিল্লি ডাকে কেন্দ্র।
কিন্তু ফের মোদীকে মাত দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বুদ্ধিতে ভর করে মুখ্য সচিব পদে ইস্তফা দিয়ে দেন আলাপন বন্দোপাধ্যায়। আর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে আড়াই লক্ষ টাকা বেতনে আগামী তিন বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচন করেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত যে আরও বাড়বে তা জানাই ছিল।
এই ঘটনার পরই গত ১লা জুন আলাপনবাবুকে শো’কজ করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর। কেন্দ্রীয় সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি একে সিং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য সচিবকে শো-কজ করে জানতে চেয়েছিলেন গত শুক্রবার কলাইকুণ্ডায় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে কেন হাজির ছিলেন না তিনি? শো’কজের আগের দিনই অবসর নেন আলাপন। কিন্তু তখনো তাকে রাজ্যের মুখ্য সচিব হিসেবেই চিঠি পাঠায় কেন্দ্র। তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।
অবশেষে তার জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা। জবাবে এদিন তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সেদিন আমি হাজির হয়েছিলাম। পরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে যাই। আমি মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে কাজ করি। তাই তাঁর নির্দেশ পালন করতে হয়।’
আরও পড়ুন- বাংলায় বিজেপির পর্যদুস্ত হওয়ার বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রে পৌঁছবেন তথাগত রায়!
তবে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এহেন ব্যাখ্যা কতদূর কেন্দ্র গ্রহণ করবে তা বলা সম্ভব নয়। রাজ্য সরকার আলাপনের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কাটিয়ে কি করে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চলে যেতে পারেন একজন আইএএস অফিসার! এই ব্যাখ্যা যদি কেন্দ্রীয় সরকারের বিশ্বাস যোগ্য না মনে হয় তাহলে আলাপনের বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে মামলা দায়ের হতে পারে বলে খবর।





