ছেলের পরে এবার বেসুরে গাইছেন বাবা মুকুল! মোদীর ফোনেও কাটলোনা জট

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী অবস্থায় সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন মুকুল রায়। ‌তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেও এখন‌ও বেশ সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন মুকুল রায়ের স্ত্রী কৃষ্ণা রায়।

নির্বাচন পরবর্তী অবস্থা থেকেই রাজ্য বিজেপির সঙ্গে বেশ ছাড়ো ছাড়ো মনোভাবে রয়েছেন মুকুল। এই অবস্থাতেই বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, মুকুলবাবু ও তাঁর স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিজেপির তরফে কেউ দেখা করতে যাননি।

কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে, গতকালই তৃণমূলের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতাল  মুকুলবাবু স্ত্রীয়ের খোঁজ-খবর নিয়ে আসেন। ‌ তাঁর কথা হয় মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে। ‌ এরপর নিজের প্রতিক্রিয়ায় শুভ্রাংশু জানান তিনি অত্যন্ত আপ্লুত। মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তিনি নিজের কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন- বাংলায় বিজেপির পর্যদুস্ত হ‌ওয়ার বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রে পৌঁছবেন তথাগত রায়!

প্রসঙ্গত শুরু থেকেই মুকুলবাবুর সঙ্গে দিলীপ ঘোষের একেবারেই বনিবনা হয় না বলেই খবর। তবুও বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুজনে একসঙ্গেই লড়াই করেছেন। ‌ জানা গিয়েছে বিজেপির প্রদেশ অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষও নাকি মুকুলবাবু স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের দলের নেতার আগমনের থেকে বিরুদ্ধ দলের নেতার আগমনের যেন‌ও বেশি খুশি রায় পরিবার।

ছেলে শুভ্রাংশুর পর বাবা মুকুল‌ও দিলীপ ঘোষের হাসপাতালে যাওয়াকে তেমন গুরুত্বই দিলেন না বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে মুকুলের বক্তব্য ‘দিলীপ ঘোষ কোথায়, কেন‌ও গিয়েছিলেন তা আমি জানি না। দিলীপ ঘোষ যে সময় হাসপাতালে গিয়েছিলেন সেই সময় শুভ্রাংশুও সেখানে ছিলেন না।’

আরও পড়ুন- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্যে চালু হয়নি সিকিউরিটি কমিশন, অভিযোগ জানিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি শুভেন্দুর

তৃণমূল ত্যাগী এই বিজেপি নেতার কথায়, দিলীপ ঘোষের সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি, যোগাযোগ হয়নি, যে কেউ হাসপাতালে যেতে পারেন, দেখা করতে পারেন, তাতে আপত্তির কিছু নেই। আমার স্ত্রী অসুস্থ। এমন সময় যাঁরা তাঁকে দেখতে গিয়েছেন, তাঁদের আমি প্রণাম জানাই।’

বিজেপিতে মুকুল যে আর ক্ষণিকের অতিথি মাত্র, তা হয়তো বুঝতে পারছে শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্বও। আর সেই জন্যই মুকুলের মান ভঞ্জনে আজ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুকুল রায়কে ফোন করে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। কিন্তু এই ফোনেও যে বরফ খুব একটা গলেনি মুকুলবাবুর বক্তব্যেই তা স্পষ্ট।

 

আরও অন্যান্য খবর