ক্রমেই শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। ইতিমধ্যেই তা বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে। তবে এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে নানান বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু করেছে সমাজমাধ্যমে। ঝড়ের বর্তমান অবস্থান কী, কোথায় ল্যান্ডফল, ঝড়ের জেরে কোথায় কেমন প্রভাব, এবার এই সবটা জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
জানা গিয়েছে, আজ, বুধবার বিকেলের দিকে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ছিল পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে। সেখান থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে ‘দানা’। যত সমুদ্রের উপর দিয়ে এগোবে, তত তার শক্তি বাড়বে। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ২৪ অক্টোবর রাতে বা ২৫ অক্টোবর খুব সকালেই উত্তর ওড়িশা ও সাগরদ্বীপের মাঝের জায়গা ওড়িশার ভিতর কণিকা-ধামরার মাঝে আছড়ে পড়বে এই ঘূর্ণিঝড়।
২০২০ সালে মে মাসে আছড়ে পড়েছিল সুপার সাইক্লোন আমফান। সেই সময় এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৭০ কিলোমিটার। গোটা দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল আমফানের কারণে। চলতি বছরের মে মাসেই পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝে আছড়ে পড়েছিল রেমাল। সেই সময় এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার। এর জেরে বাংলাদেশে বেশি ক্ষতি হয়েছিল।
আবহবিদদের মতে, কোনও ঘূর্ণিঝড়ের ফলে তিনটি প্রভাব পড়ে মূলত- ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাস। দানার ক্ষেত্রেও এই তিনটি প্রভাবের জন্যই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২৫ তারিখ পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আবহবিদরা জানাচ্ছেন, এই ‘দানা’ হয়ত আমফানের মতো ততটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে না। রেমালের মতোই গতিবেগ থাকতে পারে এর। আছড়ে পড়ার সময় ১৩০-১৩৫ কিলোমিটার গতিবেগ থাকতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়ের। কলকাতায় সেই সময় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে খবর আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে।
আরও পড়ুনঃ গাছ কেটে মেট্রো সম্প্রসারণের কাজ নয়, কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের! জোকা-বিবাদীবাগ মেট্রোর কাজ শুরু হবে না?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আধিকারিক হাবিবুর রহমান জানান, “বাতাসের গতিবেগের ওপর নির্ভর করে আমরা ঝড়ের মাপকাঠি ঠিক করে থাকি। সেদিক থেকে আমফান অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। আমফানকে বলা হয়েছিল এক্সট্রিমলি সুপার সাইক্লোন। রেমাল সিভিয়ার সাইক্লোন ছিল। রেমালের চেয়ে খুব একটা ডিফারেন্ট নেই দানার। তবে ল্যান্ডফলের সময়ের পরিস্থিতির ওপর অনেকখানি নির্ভর করে। তাই আগে থেকে নিশ্চিত করে হয়ত সবটা বলা যাবে না। তবু আমফানের চেয়ে অনেক কম”।





