ভুরি ভুরি অভিযোগ অভীক দে ও বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে, স্বাস্থ্যভবনের রিপোর্টে অভিযোগে সিলমোহর, বড় বিপাকে সন্দীপ ঘনিষ্ঠ দুই চিকিৎসক

সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ দুই চিকিৎসক অভীক দে ও বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছে। সেই রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এবার সেই রিপোর্ট যাবে স্বাস্থ্যভবনে।

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর থেকে রাজ্যের নানান মেডিক্যাল কলেজে থ্রেট কালচারের বিষয়টি উঠে আসে। চিকিৎসকদের অভিযোগ ছিল, কিছু চিকিৎসকের কারণে মেডিক্যাল কলেজের পরিবেশ খারাপ হচ্ছে। এই থ্রেট কালচারে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে বিরূপাক্ষ বিশ্বাস ও অভীক দে-র নাম। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে স্বাস্থ্যভবনের তরফে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এবার সামনে এল সেই তদন্তের রিপোর্ট।   

সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, আর জি কর ছাড়াও ন্যাশনাল মেডিক্যাল, সাগর দত্ত হাসপাতাল ও রামপুরহাট কলেজ হাসপাতাল থেকে ‘থ্রেট কালচার’-এর অভিযোগ উঠেছে। এর সঙ্গে উত্তরবঙ্গ লবির প্রসঙ্গও ওঠে। তাতেই নাম উঠে আসে এসএসকেএম-এর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি অভীক দে-র। এবার স্বাস্থ্যভবনের রিপোর্টেও তাঁর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ উঠে এসেছে বলে খবর।

চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে ৩২ দফা অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে ছিল দুবছর ধরে নিয়মিত ক্লাস না করা, হাজিরা না দেওয়া, রিপোর্ট জমা দেয়নি, বায়োমেট্রিক কাজ না করা, রোগী না দেখা, ‘থ্রেট কালচার’, মর্গে দুর্নীতির মতো নানান অভিযোগ। জুনিয়র চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই অভিযোগ করেছিলেন যে হোস্টেলে গিয়ে ভয় দেখাতেন অভীক। রাজ্যের নানান মেডিক্যাল কলেজেই ‘থ্রেট কালচার’ চালাতেন তিনি।  সূত্রের খবর, অভীক দে লিখিতভাবে এই সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও নানান অভিযোগে সিলমোহর দিল স্বাস্থ্য ভবন। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির নামে মুর্শিদাবাদে এক ব্যবসায়ীর থেকে তিন লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এছাড়াও নানান মেডিক্যাল কলেজে থ্রেট কালচারের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চারটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ আমাকে চূড়ান্ত গালাগালিও দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে জানাব গোটা বিষয়টি, যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কল্যাণের আচরণ নিয়ে কটাক্ষ অভিজিতের

এই বিরূপাক্ষ বিশ্বাস ও অভীক দে দুজনেই ৯ আগস্ট অর্থাৎ আর জি করে তিলোত্তমার দেহ উদ্ধারের দিন সেমিনার রুমে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সেই উপস্থিতি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এই ঘটনা জানাজানি হতেই বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় স্বাস্থ্য ভবন। তবে সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকরা এই নিয়ে ক্ষোভ জারি করেন। এরপর তাঁকে সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এবার এই দুই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেই ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা করল তদন্ত কমিটি।

RELATED Articles