ফুল-মালা দিয়ে সাজানো ছিল স্বর্গরথ। সৎকারের জন্য সমস্ত উপকরণও তৈরি। হঠাৎই মৃতদেহের দিকে চোখ পড়তেই আঁতকে উঠলেন পরিবারের লোকজন। এ তো তাদের পরিবারের প্রৌঢ়ের মৃতদেহ নয়, এ তো অন্য এক মহিলার মৃতদেহ। কী ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটে গেল হাসপাতালের মধ্যে?
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
এমন ঘটনা ঘটেছে দুর্গাপুরের বেনাচিতি এলাকায়। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের বেনাচিতির বাসিন্দা হলেন ৭১ বছরের প্রৌঢ় নৃপেন্দ্রনাথ শ্যাম। কিছুদিন আগেই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল দুর্গাপুরের বিধাননগর পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। আবার দু’দিন আগে সেই ওই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয় দুর্গাপুরের সগড়ভাঙার দেশবন্ধু নগরের কনক মজুমদারকেও। বুধবার রাতে হাসপাতালে মৃত্যু হয় দু’জনেরই।
আজ, বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতাল থেকে নৃপেন্দ্রনাথ শ্যামের দেহ ছাড়া হয়। পরিবারের লোকজন নিয়ে জাত মৃতদেহ। পাড়ার ক্লাবে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তখনই মুখটা ভালো করে দেখতেই সকলে আঁতকে ওঠেন। এই মৃতদেহ তো নৃপেন্দ্রনাথ শ্যামের মৃতদেহ নয়।
পরিবারের দাবী, নৃপেন্দ্রনাথবাবুর বদলে এক মহিলার মৃতদেহ রয়েছে। ফের সেই মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের লোকজন। আবার অন্যদিকে, কনক মজুমদারের পরিবার যখন জানতে পারেন যে এভাবে মৃতদেহ বদল হয়ে গিয়েছে, তারাও হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখান।
মৃতা কনক মজুমদারের এক আত্মীয় জানান, বুধবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁর পিসির। বৃহস্পতিবার সকালে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালে অপেক্ষা করছিলেন তারা। তখনই খবর পান যে এভাবে মৃতদেহ বদলে গিয়েছে। এক বৃদ্ধের জায়গায় তাঁর পিসির মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয়েছে বৃদ্ধের পরিবারকে। হাসপাতালের চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয় দুই পরিবারের তরফেই।
অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের কর্ণধার পঙ্কজ মুখোপাধ্যায় এই গাফিলতির কথা স্বীকার করে জানান, হাসপাতালের কর্মীরা দেহ শনাক্ত করতে ভুল করেছে। মর্গের কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেদিকে নজরদারু বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।






