কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (SAIL) কাঁচামাল বিভাগের সদর দফতর কলকাতা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আর কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এবার সরব হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রত্যক্ষভাবে কাজ হারাতে চলেছেন বহু কর্মী। অপ্রত্যক্ষ ভাবে কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন উক্ত সংস্থার কর্মীরা। এরপরই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আবেদন করলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন,”কলকাতা থেকে সেইলের কাঁচামালের সদর দফতরটি গুটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিস্মিত। এর ফলে করোনা অতিমারীর মাঝে কাজ হারাতে পারেন বহু চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক। বদলির জেরে পরিবার নিয়ে সঙ্কটে পড়বেন কয়েক হাজার স্থায়ী কর্মী।”
সেইসঙ্গে সমস্যায় পড়বে সেইলের কাঁচামালের উপরে নির্ভরশীল পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর ও বার্নপুরের ষ্টিল প্লান্ট। কাঁচামালের তাঁদের নির্ভর করতে হবে জন্য রৌরকেলা ও বোকারোর ওপর। অমিত মিত্র যুক্তি দিয়ে বলেছেন,”লৌহগুঁড়োর দাম বাজারে প্রতি টনের দাম ৯ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু সেইলের কাঁচামাল বিভাগ তা পাঠায় টন পিছু ৬৫০ টাকায়। ফলে বাজার থেকে কিনতে হলে দুটি কারখানা প্রতিযোগিতায় এঁটে উঠতে পারবে না। ক্রমেই অদক্ষ, রুগ্ন ও লোকসানে চলা সংস্থা হয়ে উঠবে তারা। লোকসানে চললে ছাঁটাই হবে কর্মী। কর্মহীন হবে বহু শ্রমিক।
অমিত মিত্রের কথায়,”দিল্লির ইস্পাত ভবনে সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সেইলের শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, কাঁচামালের সদর দফতর সরানো, দুর্গাপুর ও বার্নপুরকে খনিজ না দেওয়ার মতো দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী স্বয়ং। ঘটনাচক্রে বিজেপির নির্বাচনী হারের পর কাঁচামালের সদর দফতর সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ইতিমধ্যেই দুটি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাঁচানোর জন্য ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাছে আবেদন করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।”





