সরকারি নির্দেশ মেনেই ৫০ জনকে নিয়ে টেলি পাড়ায় শুরু হয় শুটিং। কিন্তু প্রথম দিনই ফেডারেশনের হুমকিতে তা বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ, কলাকুশলীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কাজে না আসেন। এমনকি, ধারাবাহিকের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যাতে না দেওয়া হয়, এই জন্য ভেন্ডারদেরও বারণ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গতকাল, বুধবার বিকেল ৫টা নাগাদ নানান চ্যানেলের কর্তারা, প্রযোজক, ও আর্টিস্ট ফোরাম একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন প্রোডিউসর্স-এর সভাপতি শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “সরকারি নিয়ম মেনে শ্যুটিং শুরু হয়েছিল। দেখলাম কলাকুশলীরা চাইলেও ফেডারেশনের হুমকির ভয়ে কাজে আসতে পারছেন না। ফেডারেশনের সমস্যা আসলে কী? সেটা বোঝা যাচ্ছে না। কাজ বন্ধ রেখে তো সার্বিক ক্ষতি হচ্ছে।ইন্ডাস্ট্রিকে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে”।
এদিকে, ফেডারেশন অদ্ভুত দাবী জানায় যে নির্দিষ্ট কিছু ধারাবাহিকে টেকনিশিয়ানরা কাজ করতে পারবেন না কারণ লকডাউন জারি থাকা সত্ত্বেও সেই সমস্ত ধারাবাহিকের শুটিং হয়েছে। তাই ফেডারেশনের সঙ্গে প্রোডিউসার গিল্ডের পরবর্তী চুক্তি সাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি রাখা হবে। এই ধারাবাহিকগুলির মধ্যে রয়েছে ‘কৃষ্ণকলি’, ‘তিতলি’, ‘অপরাজিতা অপু’, ‘গ্রামের রাণী বীণাপাণি’, ‘বরণ’, ‘খেলাঘর’, ‘যমুনা ঢাকি’, ‘গঙ্গারাম’, ‘জীবন সাথী’, ‘মিঠাই’, ‘সাঁঝের বাতি’, ‘খড়কুটো’, ‘শ্রীময়ী’, ‘মোহর’, ‘দেশের মাটি’, ‘রিমলি’, ‘ওগো নিরুপমা’, ‘ফেলনা’, ‘কি করে বলবো তোমায়’, ‘ধ্রুবতারা’।
এই বিষয়ে শৈবাল জানান, হোটেলে শুট করা নিয়ে ফেডারেশনের প্রশ্ন তোলা অমূলক। কারণ সেই দৃশ্য আগেই শুট করা হয়েছিল। ধারাবাহিকে আগাম কিছু দৃশ্য শুট করে রাখা নতুন কিছু নয়। আর মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং যেখানে বাড়ি থেকে শুটিং করাতে মান্যতা দিয়েছেন। তাহলে ফেডারেশন তাকে অন্যায় বলছে কেন? কলাকুশলীরা তাদের প্রাপ্য সাম্মানিক পেয়েছেন।
এই বিষয়ে প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “মতবিরোধ আসতেই পারে। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছে যে, আমাদের ভিতরের সমস্যার কথা বলতে হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে। এটাই হতাশাজনক”। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, গত বছরের লক়ডাউনে সাড়ে ৩ মাস কাজ বন্ধ ছিল, সেই সময়ে প্রযোজকদের তরফে ফেডারেশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল ৪০ লক্ষ টাকা। বিমা করে দেওয়া হয়েছিল। লীনার প্রশ্ন, “সে সব কথা তো এ বার উল্লেখ করা হচ্ছে না”?
লীনার আরও বক্তব্য এই ইন্ডাস্ট্রি বারবার মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা পেয়ে এসেছে। তাঁকে সকলে শ্রদ্ধা করেন। তাঁর নির্দেশেই ধারাবাহিকের কাজ ফের শুরু হয়। তাহলে তা বন্ধ করে দেওয়া হল কেন?
জানা গিয়েছে, শুটিং-এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যাতে সরবরাহ না হয়, সেদিকে নজর রেখেছে ফেডারেশন। ক্যামেরা, আলো, কিছুই দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে টেকনিশিয়ান প্রযোজক জানিয়েছেন যে তারা কাজ করতে চাইছেন কিন্তু কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে অভিনেতা শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বললেন, “যিনি ধারাবাহিক বন্ধ রেখে আমাদের সকলের ভাতের থালায় লাথি মারছেন তাঁর রোজগারের উৎস এই ইন্ডাস্ট্রি নয়। তা হলে তিনি আমাদের ক্ষতি করছেন কেন”?
চ্যানেল কর্তা, আর্টিস্ট ফোরাম, প্রযোজকদের কথায়, সরকারি নিয়ম মেনে যদি শপিং মল, রেস্তোরাঁ খোলা যায়, তাহলে শুটিং করা যাবে না কেন? এই বিষয়ে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বলেন যে তিনি মিটিং-এর এই বিষয়ে কথা বলবেন। অন্যদিকে, শৈবাল, লীনারা জানান যে তারা কলাকুশলীদের শুটিং-এর কল টাইম দেবেন এবং তারা আশাবাদী যে সকলে শুটিং-এ আসবেন।





