‘রাজনৈতিক উদ্দেশেই খুন’, কাশীপুরে বিজেপি নেতার মৃত্যুতে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’র, চাইলেন সিবিআই তদন্তও

কর্মসূচি বদল করে কাশীপুরে বিজেপি নেতা অর্জুন চৌরাসিয়ার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যেখান থেকে অর্জুনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই স্থানেও যান অমিত শাহ। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, নিশীথ প্রামাণিক ও অন্যান্যরা।

এদিন কাশীপুরে গিয়ে শাহ বলেন, “যুবমোর্চা নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, জঘন্য ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তৃণমূল সরকারের ১ বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক পরেরদিন রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার পরম্পরা শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলার যেখানেই যান রাজনৈতিক হিংসা, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বেছে বেছে নিশানা করার উদাহরণ আমাদের কাছে আছে। চৌরাসিয়ার হত্যার ঘোর নিন্দা করছি। বিজেপির সবাই চৌরাসিয়া খুনের কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই খুন করা হয়েছে চৌরাসিয়াকে”।

অমিত শাহের অভিযোগ, তৃণমূল ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। শাহ্‌’র মতে, এই হত্যাকাণ্ডের সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “দেশের কোথাও এত কম সময়ে এত সংখ্যায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়নি আদালত। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ ও আদালতের পুলিশের উপরে আস্থা নেই”। শুধু তাই-ই নয়, এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে।

প্রসঙ্গত, আজ, শুক্রবার রেল কোয়ার্টারের এক পরিত্যক্ত ঘর থেকে উদ্ধার হয় অর্জুন চৌরাসিয়ার ঝুলন্ত দেহ। তদন্তকারীদের মনে সন্দেহ জাগাচ্ছে অর্জুনের পায়ের পালিশ করা বুট ও জামা ইন করে পরা দেখে। তাকে দেখে কোনওভাবেই বিধ্বস্ত বলে মনে হচ্ছে না তবে তাঁর পা মাটিতে লেগে ছিল। ভোট পরবর্তী সময়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ঘরছাড়া ছিলেন অর্জুন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশের পর বাড়ি ফেরেন তিনি। এলাকায় সক্রিয় বিজেপি যুবনেতা বলে পরিচিত ছিলেন অর্জুন।

এই ঘটনায় কাশীপুরে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি নেতা-কর্মীরা। এসবের মধ্যেই ওঠে সিবিআই তদন্তের দাবী। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সোজা কাশীপুরে আসার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’র। স্থানীয় ও বিজেপি নেতা-কর্মীদের দাবী ছিল যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না পৌঁছনো পর্যন্ত মৃতদেহ তারা ছাড়বেন না। অমিত শাহ যাওয়ার পরই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু অমিত শাহ পৌঁছনোর আগেই জোর করেই অর্জুনের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ।

আরও অন্যান্য খবর