বাউল বাড়িতে শাহ্’র শাহি ভোজ! বোলপুরি অস্মিতায় নিজেকে বাঁধলেন অমিত

বোলপুর বা শান্তিনিকেতনে তাঁর যাওয়ার উদ্দেশ্য নিছক‌ই বাংলায় পদ্ম শিবিরের ভিত শক্তিশালী করার জন্য। লোকসভা থেকে বিধানসভা বারবার‌ই অঞ্চলভেদে আদিবাসী পরিবারে তাঁর অন্ন গ্রহণ ভোটে নতুন মাত্রা যোগ করে। এটা বিজেপির চাণক্যের অন্যতম কৌশলও বলা যায়।
কিন্তু তাঁকে বরণ করে নিতে খামতি রাখেনা তথাকথিত নিম্নশ্রেণির এই পরিবারগুলি। নিজেদের সাধ্যমত আতিথেয়তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বরণ করে নেন তাঁরা।
কাল কৃষক পরিবার তো আজ বাউল পরিবার। মধ্যাহ্নভোজন সারলেন অমিত শাহ্।
‘হৃদমাঝারে রাখব/ছেড়ে দেব না’, একতারার মন মাতানো সুরে আর গানে বোলপুরের বাউল শিল্পী বাসুদেব দাস বরণ করে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। বাড়ির নিকোনো মাটির দাওয়ায় বসেই তা বেশ উপভোগও করলেন শাহ। সঙ্গে ছিলেন বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরা। ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়, কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। এরপর মধ্যাহ্নভোজের সময় তাঁদের পাত সাজিয়ে দেওয়া হল সপ্তপদে।
আগে থেকেই প্রস্তাবিত ছিল বোলপুরে গেলে  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একেবারে আঞ্চলিক পদেই মধ্যাহ্নভোজন সারবেন। সেইমতোই রবিবার অতিথি আপ্যায়ণের জন্য সকাল থেকেই তোড়জোড় শুরু হয় রতনপল্লির বাউল বাসুদেব দাসের পরিবারে। বাসুদেব বাউল জানিয়েছেন যে অমিত শাহর আগমনের খবর শুনে তিনি এতটাই খুশি যে নিজেই নেমে পড়েছেন রান্নার তদারকিতে।
দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে খাওয়াবেন বলে নিজের হাতে বানিয়েছেন পায়েস। এছাড়া‌ও ব্যঞ্জনে উপস্থিত নানারকমের ভাজা, তরকারি। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে আলুপোস্ত তৈরিতে। কারণ, অমিত শাহ চেয়েছিলেন, বীরভূমে বিশেষভাবে তৈরি আলুপোস্তের স্বাদ পেতে। এছাড়া বাংলার বিখ্যাত নলেন গুড়ের রসগোল্লাও প্রস্তুত। সবই হয়েছে কড়া নজরদারিতে।
উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট সময়ের থেকে কিছুটা বিলম্বেই  অমিত শাহ পৌঁছন বাউল বাসুদেবের বাড়িতে। প্রথমে সেখানকার শিবমন্দিরে পুজো দেন। এরপর বাড়ির দাওয়ায় এসে বসেন। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন বাড়ির মেয়েরা। একতারা বাজিয়ে তাঁকে জনপ্রিয় লোকসংগীত – ‘তোমায় হৃদমাঝারে রাখব/ছেড়ে দেব না’ শুনিয়ে স্বাগত জানান বাসুদেব দাস। গানবাজনার মাটিতে আসন পেতে বসে খাওয়ার আয়োজন। মাটির থালার উপর কলাপাতায় সাজানো – ভাত, মুগডাল, আলু-পটল-বেগুন ভাজা, আলুপোস্ত, পালংশাকের তরকারি, টক দই, নলেন গুড়ের রসগোল্লা, পায়েস। খাঁটি বাংলার এসব পদের স্বাদ দারুণ উপভোগ করলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

RELATED Articles