চলতি বিধানসভা নির্বাচন যেভাবে শিল্পমহলে প্রভাব বিস্তার করেছে তা আগে হয়ত অন্য কোনও নির্বাচনই হয়নি।
টেলি জগত থেকে সিনেমা জগৎ কাতারে কাতারে অভিনেতা-অভিনেত্রীর ভিড়েছেন রাজনীতির ময়দানে। দলবদলের খেলায় কেউ যাচ্ছেন ঘাসফুলে, আবার অনেকেই পরিবর্তনের ডাক দিয়ে গেরুয়া শিবিরে।
আরও পড়ুন- BIG NEWS: হঠাৎই ইস্তফা দিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহল!!!
দেব-মিমি-নুসরতের মতো হেভিওয়েট টলি তারকারা তো ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সাংসদ। রাজনীতিতে সেলুলয়েডের তারকাদের অনার ট্রেন্ড শুরু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। শতাব্দী, তাপস, চিরঞ্জিত, দেবশ্রী একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীকে প্রার্থী বানিয়ে ভোটে জিতেছেন তিনি। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া শুরু থেকেই টলিউডের এ-লিস্টার তারকারা মমতার কাছের মানুষ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন।
তবে চলতি বিধানসভা নির্বাচনের থেকে হাইভোল্টেজ নির্বাচন আগে বোধহয় বাংলা কখনও দেখেনি। সব হিসেব-নিকেশ উল্টে নিজেকে ‘দিদির ভাই’ বলে পরিচয় দেওয়া যশ দাশগুপ্ত, বরাবর মমতার সান্নিধ্য পাওয়া শ্রাবন্তী সকলেই এখন নাম লিখিয়েছেন মমতার বিরুদ্ধে দল বিজেপিতে।
যদিও প্রকাশ্যে মমতার বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি কেউই। যশ তো বিজেপিতে যোগ দিয়েও মমতার প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন। শুধু মোদীজির আদর্শে চলার শপথ নিয়েছেন তাঁরা। তবে শুধু যে গেরুয়া শিবিরেই সকলে যোগ দিচ্ছে তা নয়, রাজ চক্রবর্তী,সায়নী ঘোষ থেকে সৌরভ দাস- এঁরা যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। তাই বিধানসভা নির্বাচনে টলিউড মুখেদের উপর ভরসা রাখছে দুই শিবিরই। এবার প্রশ্ন হল আর কে বা কোন তারকা রাজনীতিতে যোগ দেওয়ায় বাকি রইল?
আর এবার শ্রাবন্তীর বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট লেখেন টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা। সেই পোস্টে কার্যত টলিউডের বন্ধুদের খোঁচা দেন তারকা। অঙ্কুশ নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘আমিও ভেবেছিলাম কোন Pwari-তে যোগ দিই? বুঝলাম আমার দ্বারা হাউজ Pwari ছাড়া আর কিছু হবে না, তাও সেটা যদি অন্য কেউ স্পনসর করে’।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, কোনও রাজনৈতিক দলের সরাসরি সদস্য না হলেও তৃণমূলের হয়ে একাধিকবার ভোট প্রচার করতে দেখা গিয়েছে অঙ্কুশকে। তবে এখনই রাজনীতিতে নামতে চাননা অঙ্কুশ। দিন কয়েক আগেই এক লাইভ অনুষ্ঠানে অভিনেতা জানান, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কোনও রাজনৈতিক পদের প্রয়োজন নেই তাঁর। এমনিই ভাল আছেন। কোনও বাধা নেই, কারও কথায় চলতে হচ্ছে না তাঁদের, কী বলতে হবে কেউ শিখিয়ে-পড়িয়ে দিচ্ছেন না।





