তৃণমূলের নতুন মুখ তিনি। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর ঝাঁঝালো বক্তৃতা আলোড়ন ফেলেছিল চারদিকে। তৃণমূলের একাংশের মতে, তাঁর মধ্যে নাকি স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া দেখা যায়। ধীরে ধীরে বাংলার রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে সেই তৃণমূল যুবনেত্রী রাজন্যা হালদারের নাম। কিন্তু এবার সেই রাজন্যারই আসল রূপ ফাঁস করলেন এক বাম কর্মী।
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে রাজন্যার নাম উঠে আসে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে হামলা চালানো হয় তাদের উপর। এমনকি, তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সংগঠনের সভাপতি করা হয়েছে রাজন্যাকে। কিন্তু এবার তাঁরই এমন এক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস হল, যাতে তাঁর দলকে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হতে পারে বৈ কী!
অনুভব মাইতি, নামটা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে প্যারোডি গান বানিয়ে বেশ ভাইরাল হয়েছিলেন তিনি। তিনিই এবার ফাঁস করলেন এই রাজন্যা হালদারের কীর্তি। সম্প্রতি এক ভিডিও শেয়ার করেছেন অনুভব যাতে রাজন্যাকে নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন তিনি। তাতে রাজন্যা হালদারের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট শেয়ার করেছেন অনুভব। (যদিও এই ভিডিও বা চ্যাটের কোনও সত্যতা যাচাই করে নি খবর ২৪x৭)।
অনুভবের এই ভিডিওতে তিনি রাজন্যার সঙ্গে এক বিজেপি নেতার হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের একটি চ্যাট দেখিয়েছেন। সেই কথোপকথন অনুযায়ী, এই চ্যাট আসলে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেকার। সেখানে রাজন্যা ওই বিজেপি নেতাকে লিখছেন যে তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তিনি এও জানান, মুকুল রায়ের এলাকা কৃষ্ণনগরে তিনি যোগ দেবেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগ দেন নি তিনি।
এরপরের এক চ্যাটে দেখা যায়, রাজন্যা ওই বিজেপি নেতাকেই লিখেছেন, “খুব খারাপ দিন আসছে। এই নোংরা দল আর করা যাবে না। ওটা এখন সিপিএমের দল হয়ে গেছে”। বিজেপি নেতা প্রশ্ন করেন যে “কোন দল”। উত্তরে রাজন্যা লেখেন, “তৃণমূল”। আর এই চ্যাট ২০২১ সালের ৩রা মে-র অর্থাৎ একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের ঠিক পরের দিন।
অনুভব মাইতির কথায়, রাজন্যা আসলে বিজেপিতেই যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বটে কিন্তু একুশের নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হওয়ায় তিনি আর তা করেন নি। যে রাজন্যা একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এত কথা, এত বক্তৃতা দিলেন, তিনি শুরু থেকে সেই দলকেই ‘নোংরা দল’ বলে দেগেছেন।
অনুভব মাইতির এই ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। রাজন্যার দলের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এই ভিডিও ফাঁসের পর। সম্প্রতি নানান জায়গায় তৃণমূলের হয়ে গলা ফাটিয়েছেন রাজন্যা। কিন্ত তাঁর অতীতে যে এই দলকেই তিনি গালিগালাজ করেছেন, তা কী আদৌ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানে?
এই রাজন্যা হালদারকেই তৃণমূলের নতুন মুখ হিসেবে পেশ করা হয় একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে। ভবিষ্যতেও যে তাঁর উপর বেশ দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা বেশ স্পষ্ট। কিন্তু এই রাজন্যার উপর সত্যিই কী নির্ভর বা ভরসা করতে পারে তৃণমূল? এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত যদিও রাজন্যা বা তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।





