আসানসোল সংশোধনাগারে (Asansol jail) আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়লেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। এই কারণে আজ, রবিবার সকালেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্রের খবর, গতকাল, শনিবার রাতেই বুকে হালকা ব্যাথা (chest pain) অনুভব করেন তিনি। বিষয়টি জানার পর জেল কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্তকারী আধিকারিকদের বারবার জেরার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন অনুব্রত। প্রাথমিকভাবে জেলে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ছিল অক্সিজেন সাপোর্টও। কিন্তু সেই সাপোর্টে অনুব্রতর চিকিৎসা হওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করে জেল কর্তৃপক্ষ। সেই কারণে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূল নেতাকে।
আজ, রবিবার বেলা ১১টার কিছু পর তাঁকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই হাসপাতালে ঢোকেন অনুব্রত। তাঁকে দেখে বেশ বিধ্বস্তই লাগছিল বটে।
সূত্রের খবর, অনুব্রতর ইসিজি করানো হবে। একজন চিকিৎসক, একজন অ্যাটেনডেন্ট রয়েছেন। হাসপাতালের তরফে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুব্রত জেলে রয়েছেন ১০০ দিনের বেশি হয়ে গিয়েছে। এ কয়েকদিনে তাঁর অন্ততপক্ষে ১০ কেজি ওজন কমেছে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা গরু পাচার মামলায় জেলে গিয়ে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করছেন অনুব্রতকে। এর সঙ্গে নতুন সংযোজন হয়েছে লটারি কেলেঙ্কারি। গতকাল, শনিবারও কেষ্টকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন তদন্তকারীরা। এদিন থেকেই একটু অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে অনুব্রত।
সেই সময় জেল কর্তৃপক্ষকে সাংবাদিক্রা জিজ্ঞাসা করেন অনুব্রত অসুস্থ কী না? উত্তরে জেলের তরফে বলা হয় যে শীত পড়ছে। বার্ধক্যজনিত কারণে কিছুটা অসুস্থ হতে পারেন। তবে অনুব্রতর শারীরিক কোনও সমস্যা নেই বলেই জানানো হয়। কিন্তু রাতের দিকে বুকে হালকা ব্যাথা অনুভব করেন অনুব্রত।
অনুব্রতর এই শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “দিল্লি যাওয়ার ভয়ে নয় তো… অতীতে তো অনেক চালাকি হয়েছে, চিকিৎসকদের দিয়ে ভুয়ো রিপোর্ট বানানো হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা মনে পড়বে অনেকের। ভুবনেশ্বর ঘুরে এসে শ্রীঘরে প্রবেশ করেছেন। বুকে ব্যথা সত্যি হয়, তার তো চিকিৎসা হবে। কিন্তু যদি কোনও পুরনো ছক হয়, তা কাজ করবে না। দিল্লি যেতেই হবে, মুখোমুখি বসতেই হবে”।





