অনুব্রতকে পদ থেকে সরিয়ে দিলেন মমতা, পার্থর পর এবার কী তবে কেষ্টরও ডানা ছাঁটার পালা?

গরু পাচার কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। আপাতত জেলে রয়েছেন তিনি। তাহলে সংগঠনের কাজ কীভাবে চলবে, এ নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গতকাল, বৃহস্পতিবার জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলে বৈঠক। আর এই বৈঠকেই স্থির হয় যে অনুব্রত মণ্ডলকে এবার সরিয়ে দেওয়া হবে।

বৈঠকে ঠিক হয় যে বীরভূমের জেলা সভাপতি পদে অনুব্রত মণ্ডলই থাকবেন। তবে তিনি পূর্ব বর্ধমানের যে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র অর্থাৎ মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম ও কেতুগ্রামের দেখাশোনা করতেন, সেগুলি এক্ষণ থেকে দেখবেন ওই জেলার তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। আর সংগঠনের কাজ আপাতত দেখাশোনা করার ভার গিয়েছে স্থানীয় বিধায়ক, সাংসদ ও নেতা-কর্মীদের উপর।

এর থেকে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে তাহলে কী এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো অনুব্রত মণ্ডলের ডানা ছাঁটারও পরিকল্পনা শুরু করল দল? জানা যাচ্ছে, বীরভূম ছাড়া ওই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের দেখাশোনা করতেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু তাঁর গ্রেফতারির পর থেকেই ওই এলাকার নেতারা পথে নেমে সরব হন। এর জেরে পরিবর্তন আনতেই হল দলকে। নিজের জেলায় অনুব্রতকে রেখে বাকি তিন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কেষ্টকে।

গতকাল, বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ক্যামাক স্ট্রীটের কার্যালয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। এই বৈঠকেই স্থির হয় যে অনুব্রত মণ্ডলকে বীরভূমের জেলা সভাপতি পদে রেখে বাকি তিন বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এও বলা হয়েছে যে এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রের নেতারা পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম এই দুই জেলার নেতৃত্বদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই কাজ করবেন।

এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের নেতাদের প্রায় চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়। সিদ্দিকুল্ল চৌধুরী মঙ্গলকোটে বিধায়ক থাকাকালীন অনুব্রতর সঙ্গে সম্পর্কে ছেদ পড়ে। এই নিয়ে দলের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। আবার আউশগ্রাম ও কেতুগ্রাম এলাকার নেতারাও অনুব্রতর আনুগত্য মেনে নিতে পারছিলেন না। এই কারণে এবার সুযোগ বুঝে সরিয়ে দেওয়া হল অনুব্রত মণ্ডলকে।

RELATED Articles