রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতির ঘটনায় শাসক দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর নাম জড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি ও গরু পাচার কাণ্ডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গ্রেফতার করেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডলকে। এর জেরে বেশ চাপের মুখে তৃণমূল। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তুমুল আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী দলগুলি।
পার্থ ও অনুব্রতর গ্রেফতারির পর বাম-বিজেপি উল্লাস দেখা গিয়েছে চোখে পড়ার মতো। এরই মধ্যে এবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “তৃণমূলের চোরের সংখ্যা অনেক। সেই তালিকায় যারা যারা আছে, কাউকে ছাড়া হবে না। পার্থ ও অনুব্রত গিয়েছে, এবার ববি যাবে”। তাঁর এহেন মন্তব্যে রাজ্য-রাজনীতিতে স্বভাবতই বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গতকাল, বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ দক্ষিণে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন সুকান্ত কজুমদার। এই কর্মসূচিতে তৃণমূলের নানান দুর্নীতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন তিনি। বলে রাখি, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূলের দুর্নীতির প্রতিবাদে ‘চোর ধরো জেলে ভরো’ কর্মসূচি পালন করছে তৃণমূল। এদিন এই সভা থেকেই সুকান্ত বলেন যে ফিরহাদ হাকিমও খুব শীঘ্রই জেলে যাবেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ ছুড়ে করার পাশাপাশি দলীয় কর্মীদেরও চাঙ্গা করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “উনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকেও দলের কে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তা জানতে পারছেন না। আমি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলি, পঞ্চায়েত ভোটের সময় আপনার লাঠি হাতে বেরোবেন এবং বুথ সামলানোর দায়িত্ব আপনাদের। প্রতিটি মণ্ডল অফিসের সামনে ‘গোপনে তোলাবাজি রোগ বন্ধ কেন্দ্র’ নামক একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দিন। শাসকদলের কে কত টাকা নিচ্ছে, তা আপনারা তালিকা করে রাখুন। কেউ ছাড় পাবে না”।
বিজেপি নেতার এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূলও। তৃণমূল নেতা তাপস রায় বলেন, “কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা যে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে সক্ষম, তা আমাদের সকলের জানা। কাকে ধরতে হবে কিংবা কাকে তলব করবে, সেটা একমাত্র তারাই স্থির করবে। কিন্তু বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে মনে হচ্ছে বিজেপির নির্দেশেই ওরা সব কাজ করে চলেছে”।





