মহা ধুমধামে শুরু হয়েছিল বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তবে বর্তমান করোনা আবহে কিছুটা স্তিমিত হয়েছে উত্তেজনা। কারণ চারিদিকে মানুষের হাহাকার বেড়েছে। এরইমধ্যে এবার নতুন নির্দেশ এল নির্বাচন কমিশনের তরফে।
বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে আজ বিকেল পাঁচটা থেকে ৩০ তারিখ অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত নজরবন্দি করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেকারণেই এই সিদ্ধান্ত। কারা নজরবন্দি করবেন অনুব্রতকে? একজন এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই গোটা প্রক্রিয়াটির ভিডিওগ্রাফিও করা হবে।
আরও পড়ুন- করোনার ছোবলে পড়লেন মহাগুরু! কোভিড পজিটিভ মিঠুন চক্রবর্তী
বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রতই শেষ কথা। তাঁর দাপট দেখার মতো। মুখের ভাষাতেও বরাবরই বেলাগাম কেষ্ট।কখনও ‘চড়াম-চড়াম’, তো কখনও আবার ‘গুড়-বাতাস’। ভোট এলেই খবরের শিরোনাম চলে আসেন তৃণমূল নেত্রীর আস্থাভাজন অনুব্রত। বিরোধীরা বলেন, ভোটের সময়ে এইসব কথা বলে তিনি নাকি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেন! ২০১৬-র বিধানসভা ভোট ও ২০১৯ লোকসভা ভোটেও তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতিকে নজরবন্দি করেছিল কমিশন। সেই একই ঘটনা ঘটল একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও।
আরও পড়ুন-কঠোর কোভিড বিধি, এবার দুপুর দুটোর পর বাজার বন্ধ করে দিচ্ছে মমতা সরকার!
অষ্টম দফায় বীরভূমে নির্বাচন। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের মুখে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। প্রাথমিক তদন্তের পর বীরভূমের পুলিস সুপার যে রিপোর্ট দিয়েছেন, সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে অনুব্রতকে নজরবন্দি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিন কয়েক আগেই কিন্তু পুলিস সুপারকে বদল করেছে কমিশন। ষষ্ঠ দফার ভোটের আগে জেলা পুলিসের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছেন নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীকে। নন্দীগ্রামে ভোটের দিনে তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গে বচসা জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।
অনুব্রতকে নজরবন্দি করার প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত। নির্দিষ্ট কোনও কারণ নেই, অভিযোগ নেই। এর থেকে অনেক আপত্তিকর অভিযোগ রয়েছে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে’। তাঁর কথায়, ‘অনুব্রত মণ্ডলের উপর যে বিজেপির কুনজর পড়েছে, তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। এরা ভেবেছেটা কী! নির্বাচন কমিশন বারবার লজ্জাজনক ভূমিকা পালন করছে। আসল কাজগুলি করেনি বলে আদালত ভর্ৎসনা করছে, সেখান থেকে শিক্ষা না নিয়ে বিজেপির দালালি করছে’। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া, ‘নির্বাচন কমিশন যা এটা করে থাকে, তাহলে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানের পরিচয় দিয়েছে’।





