বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের উপর বেশ চটে রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার থেকে শুরু করে একাধিক নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ বর্ষণ করেছেন তিনি। তালিকায় রয়েছেন ধ্রুব সাহাও। এবার ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে পোস্টার পড়তেই ফের এক আক্রমণাত্মক পোস্ট করলেন অনুপম সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কী পোস্টার পড়েছে ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে?
সাঁইথিয়ায় জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ। সেই পোস্টারে তাঁকে ‘ঘুষখোর’, ‘তৃণমূলের দালাল’, ‘বিজেপিকে হারানোর মূল কারিগর’ বলা হয়েছে। তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবীও উঠেছে। গত মাসেও বীরভূমের বিজেপি সভাপতি ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে এমনই পোস্টার পড়েছিল রামপুরহাটে। সেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সভার আগে জেলা সভাপতিকে অপসারণের দাবি তুলে দেওয়া হয় পোস্টার। আগামীকাল, সোমবার সাঁইথিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর সভা রয়েছে। আর এবারও কর্মসূচির আগের দিন সাঁইথিয়ার ইউনিয়ন বোর্ড মোড়ের কাছে ফের পোস্টার পড়ল।
এমনিতেই জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পদ্ম শিবিরেরই একাংশ। বারবার দাবী উঠেছে যে ধ্রুব সাহাকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরাতে হবে। অভিযোগ, তৃণমূলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুরসভা ভোটে এলাকায় বিজেপিকে হারিয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে আনান অভিযোগ তুলেছেন অনুপম হাজরাও। এবার এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করলেন তিনি।
কী লিখেছেন অনুপম?
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অনুপম লিখেছেন, “নিজের দলের মধ্যে বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠিত চোর এবং দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রাখলে, আর কয়েকদিন পর তৃণমূলকে চোর বলার জায়গায় থাকবো কী আমরা”??
এই পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “এখন কেউ কেউ আদিখ্যেতা করে বলবেন সোশ্যাল মিডিয়াতে কেন লিখছি, কারণ কারণ পার্টির মধ্যে তো বলার সুযোগ নেই, কারণ রাজ্য বিজেপির কোনো মিটিংয়ে ডাকা হয় না, বা বারবার বলা সত্ত্বেও শোনা হয় না”।
গতকালই দলের শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়েও একটি পোস্ট করেছিলেন অনুপম। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষ, যারা রাজনীতি করেন (সে যে দলেরই সদস্য হোক না কেন) – তাদের কাছে আমার দুটি প্রশ্ন রইলো। ১. দলের কোণঠাসাদের উজ্জীবিত করা যে কোনও পার্টির পক্ষে ক্ষতিকারক? ২. তাহলে কি পার্টিকে বিক্রি করে নিজের পকেট গরম করাটা বা পার্টিতে থেকে চুরি করাটা শৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে পড়ে। আর এটা নিয়ে আওয়াজ তুললেই শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়ে যায়”? রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুপম মুখে যাই বলুন না কেন, তিনি আসলে বঙ্গ বিজেপির একাংশকেই প্রশ্নবাণে বিঁধেছেন।





