দুই মহিলাকে ভরা বাজারে বি’ব’স্ত্র করে জুতোপেটা, কোথায় গেল মমতাদির মমতা? প্রশ্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর, শাসকদলকে তোপ অধীরেরও

পাঁচলার পর এবার মালদহ। সেখানে দুই আদিবাসী মহিলাকে প্রকাশ্য বাজারে বি’ব’স্ত্র করে মারধর, জুতোপেটা করার অভিযোগ উঠেছে। আর নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল পুলিশ। এই ঘটনা নিয়ে তুমুল চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র কে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন ক্রীড়া মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। শাসকদলকে তোপ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীরও।

কী ঘটনা ঘটেছে?

মালদহের বামনগোলার পাকুয়াহাটে ঘটে এমন লজ্জাজনক ঘটনা। স্থানীয় সূত্রের খবর, নির্যাতিতা ওই মহিলা দু’জন সম্পর্কে দুই জা। তারা হাটে গিয়েছিলেন লেবু বিক্রি করতে। সেখান থেকেই গোলমালের সূত্রপাত। চোর সন্দেহে ওই দুই মহিলাকে বি’ব’স্ত্র করে জুতোপেটা করে জনতা, এমনটাই অভিযোগ। পুলিশ সেখানে উপস্থিত থেকেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, পুলিশই বা কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেন না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

কী বলছেন অধীর চৌধুরী?

এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবী তুলে অধীর চৌধুরী বলেন, “নারী নির্যাতনে গোটা দেশের মধ্যে বাংলা প্রথম পাঁচের মধ্যে রয়েছে। এই ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা করছি। অপরাধীদের দ্রুত ধরে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। সে যে দলেরই হোক না কেন। সিভিক ভলান্টিয়ার হোক যেই হোক তাঁদের শাস্তি দেওয়া দরকার। এটাই আমাদের দাবী”।

ক্রীড়া মন্ত্রী কী প্রতিক্রিয়া দেন?

এই ঘটনায় রাজ্য সরকারকে শানিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর বলেন, “মালদায় দু’জন মহিলাকে মারতে মারতে অর্ধন’গ্ন করে দেওয়া হয়েছে। সবাই দেখছে এ দৃশ্য। কোথায় গেল মমতাজির মমতা? কোথায় গেল সরকার? সরকার তো এখন দর্শক সেজে বসে আছে। আর যে বিরোধী নেতারা জোট করেছেন তাঁদের দেখুন এখন। তাঁরা কেউ কিন্তু, এই ইস্যুতে মুখ খুলছেন না”।

তৃণমূলের কীও প্রতিক্রিয়া এই ঘটনায়?

তৃণমূলের তরফেও দোষীদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। মালদা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র আশিস কুন্ডু বলছেন, “যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। পুলিশের উচিত অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দেওয়া। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তবে যাঁরা চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশাবাদী”।

RELATED Articles