পুজোর আগেই হাজার হাজার চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সোমবার নেতাজি ইন্ডোরে বেশ ঘটা করে হাজার হাজার যুবক-যুবতীদের হাতে তুলে দেন নিয়োগপত্র। একাধিক সময় একাধিকবার কর্মসংস্থানের দাবী করেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু তরুণ-তরুণীদের হাতে তুলে দেওয়া সেই নিয়োগপত্র আদৌ কতটা কাজের বা তা দিয়ে আদৌ কোনও চাকরি মিলবে কী?
এমনই নিয়োগপত্র পাওয়া এক যুবকের অভিভাবকের সঙ্গে ফোনে কথা হয় নিয়োগপত্রে উল্লেখ থাকা ফানফার্স্ট কোম্পানির এক আধিকারিকের। বাংলা সংবাদমাধ্যম ‘গণশক্তি’তে সেই দু’পক্ষের কথোপকথন তুলে ধরা হয়েছে। যদিও এই কথোপকথনের সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭। আর সেই কথোপকথন থেকেই উঠে এল নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ওই অভিভাবক ফানফার্স্ট কোম্পানিতে ফোন করলে সেখানকার এক আধিকারিক জানান যে তাঁর ছেলে যে নিয়োগপত্র পেয়েছে, তা ভুয়ো। ওই আধিকারিকের কথায়, গুজরাতের সুজুকি কোম্পানির সঙ্গে তাদের আইটিআই নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হয়। কিন্তু তাদের অফার লেটারকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই আধিকারিকের নাম বেদপ্রকাশ সিং। তিনি জানান যে তিনি সেখানকার সেন্টার ম্যানেজার।
ওই আধিকারিকের কথায়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোনও ছেলেকে তাদের কোম্পানিতে অন্তত চাকরি দেওয়ার কোনও কথা নেই। এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের কারিগরি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। গত ১২ই সেপ্টেম্বর নানান জেলা থেকে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে গিয়ে দেওয়া হয় নিয়োগপত্র।
আবার হুগলী জেলার ১০৭ জনকে ফোন করে বলা হয় তারা যাতে হুগলী এইচআইটি কলেজ থেকে নিয়োগপত্র সংগ্রহ করে। সেই অফার লেটারে লেখা রয়েছে যে গুজরাতের মারুতি সুজুকি কোম্পানিতে দু’বছরের আইটিআই কর্মসূচিতে ভেহিকেল টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ভাতা দেওয়া হবে ১১ হাজার টাকা করে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নথি দেখার পর প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হবে। আর ওই লেটারের নীচে সেন্টার ম্যানেজারের নাম বেদপ্রকাশ সিং ও তাঁর ফোন নম্বর লেখা।
সেই ফোন নম্বরে ফোন করে যুবক-যুবতীরা জানতে পারেন যে গোটা বিষয়টিই ভুয়ো। তাদের যেভাবে অফার লেটার ধরানো হয়েছে, সেটি কোনও নির্দিষ্ট পদ্ধতিই নয়। জানানো হয় যে গুজরাতে যারা প্রশিক্ষণ দেন তারাই নিজেরা প্রার্থী নির্বাচন করেন ও তাদের কোম্পানির লেটার হেডে আলাদা করে চিঠি পাঠানো হয়। ফানফার্স্ট সংস্থা ও সুজুকি যৌথভাবে এই প্রশিক্ষণ দেয়। ফানফার্স্টের তরফে জানানো হয়েছে যে তারা এই বিষয়টি জানতে পেরেছেন, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই।





