রাজ্যে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবক-যুবতী একটা সম্মানজনক চাকরির আশায় দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। মেয়ো রোডে চাকরিপ্রার্থীরা ৫০০ দিনের বেশিদিন ধরে নিজেদের যোগ্য চাকরির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু রাজ্যে চাকরির দেখা নেই। অথচ মুখ্যমন্ত্রী বলছেন হাজার হাজার চাকরি রয়েছে। এবার রাজ্যের যুবক-যুবতীদের ব্যবসায় উৎসাহিত করতে দিশা দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার প্রস্তাবিত চপশিল্প নিয়ে অতীতে কম সমালোচনা হয়নি। বিরোধীরা চপ ভেযে এর প্রতিবাদ করেছে। আবার দেখা গিয়েছে, এই চপ শিল্প নিয়েই কেউ আবার পিএইচডি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে টোন টিটকিরিও সহ্য করতে হয়েছে। এবার কর্মসংস্থানের দিশা দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুজোর মুখে রাজ্যের যুবক-যুবতীদের ব্যবসার জন্য উৎসাহ জোগালেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, চা, বিস্কুট, তেলেভাজা, ঘুগনির ব্যবসা করা যেতে পারে। পুজোর সময় এসব দিয়ে কুলোতে পারা যাবে না, তাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, খেটে খেতে হবে, শরীরের নাম মহাশয়। এর পাশাপাশি এসব ব্যবসা কতটা লাভজনক, তাও বাতলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
খড়গপুরে উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি বলেন, “আমার এই কথা শুনে অনেকেই টোন টিটকিরি দেন। আমি বলতাম, আপনার কাছে টাকা নেই। আপনি এক হাজার টাকা নিন। এক হাজার টাকা নিয়ে একটা কেটলি কিনুন আর কয়েকটা মাটির ভাঁজ নিন। সঙ্গে কিছু বিস্কুট নিন। আস্তে আস্তে বাড়বে। প্রথম সপ্তাহে বিস্কুট নিলেন। তারপরের সপ্তাহে মাকে বললেন, মা একটু ঘুগনি তৈরি করে দাও। তারপরের সপ্তাহে একটু তেলেভাজা করলেন”।
মমতা বলেন, “একটা টুল আর একটা টেবিল নিয়ে বসলেন। এই তো পুজো আসছে সামনে। দেখবেন লোককে দিয়ে কুলোতে পারবেন না। আজকাল এত বিক্রি আছে। কোনও কাজ জীবনে ছোট নয়। যত মানুষ মাটি থেকে বড় হয়েছে এটা তাঁদের কাহিনি। এটাই তাঁদের গর্ব। আপনি একটা স্কিল ট্রেনিং নিয়ে এলেন, তাঁকে বলব বাড়িতেই দোকান করুন। একটু খেটে খেতে হবে। শরীরের নাম মহাশয়। সুযোগ পেলে শিক্ষকতাও করবেন। আগামীদিনে ৮৯ হাজার শিক্ষক নেওয়া হবে। সুযোগ পেলে কেন করবেন না”।
এর পাশাপাশি মমতা পরামর্শ দেন যে দুর্গাপুজোয় ফোটা কাশফুলগুলোকে একযোগ করে, তাতে তুলো মিশিয়ে লেপ, বালিশ তৈরি করা যেতে পারে।





