‘বারবার বুঝিয়েও কেন্দ্রের নেতারা বুঝতে চান না…’ বাংলায় মমতাকে সরাতে গেলে কোন কায়দা? বাতলে দিলেন অর্জুন

একুশের বিধানসভা নির্বাচন, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন বা পঞ্চায়েত নির্বাচন, সবেতেই বাংলায় জামানত জব্দ হয়েছে বিজেপি। আর সদ্য শেষ হওয়া উপনির্বাচনেও ভরাডুবি হয়েছে গেরুয়া শিবিরের। উত্তরবঙ্গেও যেন ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে বিজেপি। এমন আবহে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গদিচ্যুত করার কায়দা বাতলে দিলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং।

উপনির্বাচনে ৬টি আসনেই হার হয়েছে বিজেপির। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির কবলে থাকা মাদারিহাট কেন্দ্রটিও বাঁচাতে পারে নি তারা। সেখানেও প্রথমবার ফুটেছে ঘাসফুলই। এর জেরে বঙ্গে বিজেপির ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ চিন্তায় গেরুয়া শিবিরের নেতারা। তবে অর্জুন সিংয়ের কথায়, এভাবে চলতে থাকলে বাংলায় বিজেপি প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। মমতাকে সরাতে গেলে তাঁরই কায়দা অবলম্বন করতে হবে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অর্জুন সিং বলেন, “বিরোধী হিসাবে বাংলার মানুষ যদি কাউকে ধরে রাখে তার নাম শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুদার উপর বিশ্বাস করে দল যদি ছেড়ে দেয় তবে দল ২০২৬ সালে রিটার্ন গিফট পাবে”।

অর্জুনের কথায়, “নির্বাচন কমিশনকে বোঝাতেই পারা যাচ্ছে না যে বাংলায় এইভাবে ভোট হয়। দলের শীর্ষ নেতারা এটা বুঝতেই পারছে না। আমি, শুভেন্দু অধিকারী বার বার বলেছি, কিন্তু দল এটা বুঝতেই পারল না। এর উপর কোনও অ্যাকশন নেই”।

বিজেপি নেতার দাবী, বিজেপি বাংলায় যেভাবে ঘুঁটি সাজিয়ে জিততে চাইছে, সেভাবে ক্ষমতা দখল করা সম্ভব নয়। অর্জুন বলেন, “তৃণমূলকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটা যারা করেছিল তার মধ্যে আমিও ছিলাম অন্যতম। যদি দল আমার উপর বিশ্বাস না করে, যদি ক্লার্ক তৈরি করে, পলিটিকাল এলিমেন্ট তৈরি না করে তবে কিছু হবে না। কোন লোককে দিয়ে সতরঞ্জের বাজি জেতা যেতে পারে দল যদি এটা না বোঝে না প্রয়োগ করতে পারে, তবে এটা দলের ব্যাপার। এই জাস্টিফিকেশনটাই নেই দলের যে, কোন লোককে দিয়ে কী কাজ করতে হবে”।

আরও পড়ুনঃ ফের কলকাতার রাস্তা থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত অজ্ঞাতপরিচয়ের দেহ, পাশে পড়ে স্কুটার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, তদন্তে পুলিশ

অর্জুনের সাফ কথা, জঙ্গি আন্দোলনের মাধ্যমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে হবে। বামেদের সরাতে মমতা যেমন আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন, সেই একই পদ্ধতিতে এবার ম্মতাকেও গদিচ্যুত করতে হবে। অর্জুনের দাবী, “আমরা যারা লড়াই করে সিপিএমকে সরিয়ে ছিলাম তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। কাজে লাগানো হচ্ছে না। যাঁরাই তৃণমূল বিরোধী সবাইকে সঙ্গে নিতে হবে”। সিপিএমের ভিতরেও লোক নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

RELATED Articles