আবাস যোজনায় ঘরের তালিকা সঠিক রয়েছে কী না, তা স্থির করার জন্য পূর্ণ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে আশা কর্মীদের। কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়েই গ্রাম সমস্যার মুখে পড়েছেন তারা, এমনটাই অভিযোগ উঠল। তাদের দাবী তৃণমূল নেতারা হুমকি শানাচ্ছেন তাদের। এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল, শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে স্মারকলিপি জমা দিলেন আশা কর্মীরা। সিপিএম শ্রমিক সংগঠন সিটুর তরফে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ডাকা হয়।
আশা কর্মীরা অভিযোগ করেছেন শাসক দলের নেতারা কখনও বা তাদের সরাসরি হুমকি দিচ্ছে, আবার কখনও বা যাদের নাম যাচ্ছে তাঁদেরকে দিয়ে হুমকি দেওয়াচ্ছে। যেসমস্ত এলাকায় এই ধরণের সমস্যা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই সেগুলির বিষয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবী, ওই এলাকাগুলিতে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁরা আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার যোগ্য নন। কিন্তু তাঁদের নাম রয়েছে সরকারি তালিকায়।
আশাকর্মীদের স্পষ্ট বক্তব্য, স্থানীয় জন প্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকরা এই তালিকা প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু আশা কর্মীদের দিয়ে এই অস্বচ্ছ তালিকা থেকে কেবলমাত্র অযোগ্যদের নাম বিয়োজন সংক্রান্ত কাজ করানো হচ্ছে। এই কাজ করতে গিয়ে অহেতুক হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
আশা কর্মীদের দাবী, এমনটা যদি চলতে থাকে, তাহলে তারা পরবর্তীতে আর কাজ করবেন না। তাদের এও দাবী, আগামী সাতদিনের মধ্যে অব্যাহতি সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করতে হবে। এই দাবী জানিয়েছেন তারা গতকাল জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
এই বিষয়ে আশা কর্মী ইউনিয়নের সম্পাদক চুমকি দাস বলেন, “আমরা পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ করতে গেলে সেখানে স্থানীয় তৃণমুল নেতারা আমাদের কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন। বলছেন কারও নাম বাদ গেলে পিঠের চামড়া তুলে নেওয়া হবে। এই অবস্থায় আমাদের পক্ষে কাজ করা অসম্ভব। তাই আমরা এই কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে স্মারকলিপি দিলাম”।
যদিও পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিতা রাউতের তরফে আশা কর্মীদের এই অভিযোগ নাকোচ করা হয়েছে। তাঁর দাবী, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আশা কর্মীদের এই ধরণের কোনও হুমকিই দেওয়া হয়নি।





