‘প্ররোচনা দিলে অনেক কিছুই হতে পারে’, চাকরিপ্রার্থীকে পুলিশের কামড়ে দেওয়ার ঘটনাকে সমর্থন করে মন্তব্য বিধানসভার স্পিকারের

চাকরিপ্রার্থীকে (TET aspirants) পুলিশের কামড়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল হয়েছে। এর জেরে পুলিশের (police) ভূমিকা নিয়ে তো ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেই একদল, আবার রাজ্যের শাসক দলকেও বেশ অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। অনেকেই আবার পুলিশের এহেন আচরণকে সমর্থন করেছে। এবার বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Biman Banerjee) গলাতেও তেমনই সুর শোনা গেল।

গত বুধবার কলকাতায় বিক্ষোভ দেখান টেট চাকরিপ্রার্থীরা। সেই সময় তাদের আটকায় পুলিশ। সেদিন এক চাকরিপ্রার্থী অরুণিমা পালের হাতে কামড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এক মহিলা কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশের তরফে পাল্টা দাবী করা হয় যে অরুণিমা প্রথমে পুলিশকর্মীকে কামড়েছিলেন। পুলিশকর্মীর হয়ে অনেক তৃণমূল নেতাকেই কথা বলতে শোনা গিয়েছে।

আজ, শুক্রবার বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্ররোচনা দিলে অনেক কিছুই হতে পারে”। অর্থাৎ অভিযুক্ত পুলিশের আচরণের পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি। এ বিষয়ে এদিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যা হয়েছে ঠিক হয়নি। পুলিশের কোড অফ কন্ডাক্টে এটা করা যায় না। তবে কী হয়েছে, সেই তদন্ত হচ্ছে”। তিনি এও অভিযোগ করেন যে বিরোধীরা আন্দোলনকারীদের উস্কানি দিচ্ছে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে গতকাল, বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, “জোর করে চাকরি নেওয়ার জন্য যদি দিনের পর দিন পথ আটকে বসে থাকে, দিনের পর দিন পুলিশের ওপর হুজ্জুতি করে, যদি সরকারকে অপদস্থ করার চেষ্টা করে, যদি পুলিশকে যদি কামড়ে দেয়, তাহলে পুলিশ কামড়ে দেবে না তো কি, রসগোল্লা ছুঁড়বে”?

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, “বিধায়কের ভীমরতি হয়েছে”। এই প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, এ“তৃণমূল এখন পাগল কুকুরের মতো হয়ে গিয়েছে। তাই এসব বলছে। পুলিশের যে নিয়ম নীতি, তা তুলে দেওয়া হোক”। অজিত মাইতিকে সতর্ক করে বিজেপি নেতা বলেন, “কোনদিন দেখবেন, চাকরি প্রার্থীরা আপনাকেও কামড়ে দিয়েছে। তখন আমরাও বলব, ওটা আসলে রসগোল্লা খাওয়ানো হয়েছে”।

RELATED Articles