এটিএম জালিয়াতি অভিনব পন্থা। যেখানে মেশিন ভাঙ্গার হ্যাপা নেই। খুব সোজা ভাবে আরামছে তুলে নেওয়া হচ্ছে টাকা। আর এই ঘটনাতেই রীতিমতো ঘুম ছুটেছে ব্যাংক থেকে শুরু করে পুলিশের।
কেউ কিছু জানতে পারছে না, বুঝতেও পারছেন না শুধু উধাও হয়ে যাচ্ছে লক্ষাধিক টাকা।লালবাজার সূত্রে খবর তিলোত্তমার বুকে গত ন’দিন ধরে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা জালিয়াতি হয়েছে l
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যাদবপুরের একটি এটিএম থেকে ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ও কাশীপুরের একটি এটিএম থেকে ৭ লক্ষ টাকা ও নিউমার্কেট অঞ্চলের একটি এটিএম থেকে ১৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, তুলে নেওয়া হয়েছে। তাহলে মেশিন না ভেঙে কোন বিশেষ উপায়ে টাকা তুলে নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা?
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এটিএম থেকে টাকা তুলতে জালিয়াতরা একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্রের সাহায্য নিচ্ছে। আর এর মাধ্যমেই যত অঙ্কের টাকা তোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে মেশিনকে, তার থেকে কয়েকগুণ অধিক পরিমাণ টাকা বেরিয়ে আসছে এটিএম থেকে।
যেভাবে এটিএম থেকে আর ৫ জন মানুষ টাকা তোলেন এই ক্ষেত্রে দুষ্কৃতীরাও সেইভাবেই টাকা তুলছে।
বিশেষজ্ঞ মহল জানাচ্ছে এটিএম-এর সঙ্গে একটি বিশেষ তার দিয়ে ওই যন্ত্রটি সংযোগ করা হচ্ছে। তার পর কার্ড ঢুকিয়ে যত অঙ্কের টাকা তোলার জন্য নম্বরে চাপ দেওয়া হচ্ছে, তার থেকে বেশি অংকের টাকা বেরিয়ে আসছে মেশিন থেকে।
এই ঘটনায় কি বলছেন লালবাজার কর্তারা? তাঁদের কথা অনুযায়ী, এটিএমের সফটওয়্যারের মাধ্যমেই এই জালিয়াতি করা হচ্ছে।
মূলত গ্রাহক কার্ড ঢোকানোর পর মেশিন সাধারণত ‘কমান্ড’ অনুযায়ী কাজ করে। যেমন কোনও গ্রাহক যদি ২০ হাজার টাকা তোলার জন্য ‘কমান্ড’ দেন, তবে সেই মোতাবেক মেশিন স্থির করে ২০ হাজার টাকা বের করা হবে। প্রতারকদের ক্ষেত্রেও ঠিক এই এই প্রক্রিয়াতেই চলছে কারচুপি। কার্ড ঢোকানোর আগে ব্যাংকের সঙ্গে সংযোগকারী তার বদলে দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে ২০ হাজার টাকার জন্য ‘কমান্ড’ দেওয়া হলেও মেশিন বুঝছে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা। এবং সেই মোতাবেক টাকা বেড়িয়ে আসছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে লালবাজার।





