‘আমি যাদবপুরে মার খাচ্ছিলাম আর বিজেপির নেতারা টিভিতে মজা দেখছিলেন’, দু’বছর পর যাদবপুর ঘটনায় বিজেপিকে তোপ বাবুলের

সালটা ২০১৯, তারিখ ১৯শে সেপ্টেম্বর। সেদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি-র একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যান তৎকালীন সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। বামপন্থী পড়ুয়ারা বাবুলকে ঘিরে নানান বিক্ষোভ দেখায়।

শেষ পর্যন্ত ঝামেলা থামাতে উপস্থিত হতে হয় আচার্য তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে। এবার এই ঘটনার দু’বছর পর নতুন করে বিজেপি নেতাদের আক্রমণ শানালেন বাবুল সুপ্রিয়। তাঁর কথায়, “সে দিন তো কোনও বিজেপি নেতা এগিয়ে আসেননি।। বাড়িতে বসে মজা দেখছিলেন সবাই। দেখছিলেন, বাবুল কেমন মার খাচ্ছে”।

আরও পড়ুন- ‘কত নোটিশ পাঠাবেন পাঠান, ইডি-সিবিআই আমার কাঁচকলা করবে’, ভবানীপুরে সুর সপ্তমে চড়িয়ে তোপ অভিষেকের

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৯সজে সেপ্টেম্বরের সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন বাবুল। তিনি বলেন, “এবিভিপি-র একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে খুব সাধারণ ভাবে গিয়েছিলাম। মন্ত্রী হিসাবে যাইনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেস্টে কত বার গাইতে গিয়েছি। তাই সাধারণ নিয়মেই গিয়েছি। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা আমাকে আক্রমণ করেছিল। ওরা অবশ্য বাবুল সুপ্রিয়কে আক্রমণ করেনি, করেছিল আমার রাজনৈতিক দলকে। কিন্তু আমি মাঠ ছাড়িনি। কই এক জনও বিজেপি-র নেতা তো আসেননি সেই সময়ে। উল্টে সিপিএম-তৃণমূলের অফিস ভাঙচুর করে আমাকে অস্বস্তিতে ফেলা হয়েছিল”।

সেদিনের সেই ঘটনার পর একটি ছবি বেশ ভাইরাল হয় যাতে দেখা যায় একটি বন্দুকের ম্যাগাজিন মাটিতে পড়ে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে বাবুল জানান, “আমার সঙ্গে তো জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। ওদের একটি বন্দুকের ম্যাগাজিন খুলে পড়ে গিয়েছিল। সেটা নিজে এসে ফেরত দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ওঁর সঙ্গে আমার একটা ছোট তর্ক হয়েছিল। আমি উপাচার্যকে বলেছিলাম, যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে চাই। উপাচার্য আমাকে বলেছিলেন, দোতলায় উঠে ওঁর সঙ্গে বসতে। আমি যেতে চাইনি”।

তবে বাবুল এও স্বীকার করেন যে সেদিন তিনিও এই ঘটনার জেরে বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। উপাচার্যের সঙ্গে তাঁর তর্কও হয়েছিল বেশ। তবে তিনি এও বেশ জোর দিয়েই জানান যে সেদিন তিনি কোনও ভুল করেননি। চুল টানার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে বাবুল বলেন, “ওই ছেলেটা, যে আমাকে চুলের মুঠি ধরে মেরেছিল, তার ছবি, পরিচয় সব আমার কাছে আছে। ঘটনার পরের দিন ওই পড়ুয়ার মা আমাকে ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, ওকে যেন ক্ষমা করে দিই। আমি তো আজ পর্যন্ত কোনও পুলিশে অভিযোগ করিনি। ক্ষমা করেছিলাম। কিন্তু কী হল?  শতরূপ ঘোষ, ওই বামপন্থী। তিনি ছেলেটাকে বসিয়ে বললেন, যত বার বাবুল-সুপ্রিয় আসবে, তত বার চুলের মুঠি ধরে টানব”।

আরও পড়ুন- নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ পরিষেবার জন্য ট্রান্সফরমার বসাতে দিনমজুরের বাড়ি ভাঙলেন তৃণমূল নেতা, বাধা দেওয়ায় গৃহকর্ত্রীকে বিবস্ত্র করে মারধর

এই সাক্ষাৎকারে এদিন বামেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন বাবুল সুপ্রিয়। শতরূপের প্রসঙ্গ টেনে বাবুল বলেন, “এই জন্যই বামেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই”।

আরও অন্যান্য খবর