ফের ভুয়ো নিয়োগের অভিযোগ। এসএসসি গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগ মামলায় তদন্তের জন্য গঠন করা হয় বাগ কমিটি। সেই কমিটি আজ, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ করে। আর এই রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রুপ-সি-তে ৩৮১ জনকে ভুয়ো নিয়োগ করা হয়েছে।
আজ, শুক্রবার, কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি আনন্দ কুমার মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে বাগ কমিটির রিপোর্ট পেশ করেন আইনজীবী অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে গ্রুপ-ডি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম জড়ায়। এবারও বাগ কমিটির রিপোর্টে দাবী করা হল যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তা বেআইনি।
এই রিপোর্টের প্রেক্ষিতেই আইনজীবী অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে ৩৮১ জনকে চাকরিতে ভুয়ো নিয়োগ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ৩৮১ জনের মধ্যে ২২১ জন পরীক্ষাই দেন নি। আর বাকিরা পরীক্ষায় পাশই করেননি।
আজ এই রিপোর্ট জমা পড়ার পর ডিভিশন বেঞ্চ এসএসসি নিয়োগ মামলায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছে। আগামী ১৮ই মে এই মামলার রায় ঘোষণা হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিনের এই শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, “একক বেঞ্চ পুলিশের উপর আস্থা রেখেছে। আবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা পারেনি, এমন তো ঘটেনি। বিভাগীয় বা অপরাধ হোক পুলিশ এই তদন্ত করতেই পারে”।
এই মামলায় বাগ কমিটির আইনজীবী অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে ওএমআর সিটে গণ্ডগোল করে ও নম্বর বাড়িয়ে চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছে। মামলাকারী আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের কথায়, “বাগ কমিটির রিপোর্ট দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে নিয়োগে বড় দুর্নীতি হয়েছে। আর উপরতলার নির্দেশ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। ক্রিমিনাল তদন্ত হওয়া উচিত”।
এই রিপোর্টে যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন, এসএসসির প্রোগ্রামিং অফিসার সমরজিৎ আচার্য, চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, স্কুল সার্ভিস কমিশনের সচিব অশোক কুমার সাহা, এসএসসি’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচর্য। এছাড়াও নাম রয়েছেকমিশনের আঞ্চলিক চেয়ারম্যান শর্মিলা মিত্র, শুভজিত চট্টোপাধ্যায়, শেখ সিরাজউদ্দিন, মহুয়া বিশ্বাস, চৈতালি ভট্টাচার্য, বোর্ডের টেকনিক্যাল অফিসার রাজেশ লায়েকেরও।





