ফের ট্রেন দুর্ঘটনার খবর রাজ্যে। অফিস টাইমে টিকিয়াপাড়া কারশেডের কাছে লাইনচ্যুত হয়ে গেল বাগনান-হাওড়া লোকাল। দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছন হাওড়ার ডিআরএম-সহ অন্যান্য রেল আধিকারিকরা। উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। ফলে প্রবল দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের।
রেল সূত্রে খবর, লোকাল ট্রেনটি বাগনান থেকে হাওড়ায় আসছিল। হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন টিকিয়াপাড়া কারশেডের কাছে ঘটে বিপত্তি। জানা গিয়েছে, হাওড়া স্টেশনের ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকার কিছুটা আগে বাঙ্গালবাবু সেতুর কাছে লাইনচ্যুত হয়ে যায় ওই লোকাল ট্রেনটি। ট্রেনের পাঁচ নম্বর বগির দু’টি চাকা লাইন থেকে নেমে যায়। প্রবল ঝাঁকুনি ও শব্দ হয়। মুহূ্র্তে থেমে যায় ট্রেন। প্রবল আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা।
সমস্যা হয়েছে বুঝতে পেরেই ট্রেন থেকে নেমে পড়েন যাত্রীরা। এরপর ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন ধরে হেঁটেই হাওড়া স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হন সকলে। দুর্ঘটনার জেরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এর জেরে অফিস টাইমে বেশ ভোগান্তির মুখে পড়েছেন যাত্রীরা। পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এদিনের এই দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছন ইঞ্জিনিয়ার এবং রেলের আধিকারিকরা। দ্রুত কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে রেল পরিষেবা স্বাভাবিক হতে আরও কিছুক্ষণ সময় লাগবে বলে জানান তিনি। কারণ ডাউন লাইনের পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
উল্লেখ্য, গত রবিবার আপ রাধিকাপুর এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে ছেড়ে রাধিকাপুর যাচ্ছিল। রাত দেড়টা নাগাদ মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বল্লালপুরের ব্রিজের নীচে রেললাইনের উপর আচমকাই একটি বালি বোঝাই লরি চলে আসে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরিকালীন ব্রেক কষেন ট্রেনের চালক। তবে ধাক্কা এড়ানো যায়নি। লরিটিতে ধাক্কা মারে রাধিকাপুর এক্সপ্রেস।
এমন আচমকা ব্রেক কষার কারণে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লেগে যায়। লাইনচ্যুত হয় ইঞ্জিনের চাকাও। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসেন রেল দফতরের আধিকারিকরা। আসেন রেল পুলিশ ও ফরাক্কা থানার আইসি দেবব্রত বিশ্বাস। দমকলের ২টি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।






