শোভন বাবুকে হাঁটাহাঁটি করতে বলেছে ডাক্তার, তাই গিয়েছিলাম, সুব্রত’র ঘরে যাওয়া নিয়ে অদ্ভুত মন্তব্য বৈশাখী’র

গতকাল হাইকোর্টে শুনানির পর সিবিআই এর হাতে গ্রেফতার হওয়া ৩ ‘অসুস্থ’ নেতাকেই হঠাৎ চাঙ্গা হয়ে যেতে দেখা যায়। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় উঠে আসে সেই দৃশ্য।উডবার্নের ১০৬ নম্বর ঘরে ভর্তি রয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।

প্রথমে তৃণমূল তারপর সদ্য বিজেপিত্যাগী সেই শোভনের ঘর থেকে বেরিয়ে ১০২ নম্বর ঘরে ঢুকতে দেখা যায় শোভনের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ১০২ নম্বর ঘরেই আবার ভর্তি রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল সেই ঘর থেকে শাল জড়াতে জড়াতে বেরিয়ে আসছেন মদন মিত্র। আর তাঁর পিছু পিছু এক সঙ্গে হেঁটে বেরিয়ে আসছেন শোভন-বৈশাখী। এরপর মদন ঢুকলেন শোভনের কেবিনে। তাঁর পিছু পিছু ঢুকে পড়লেন শোভন-বৈশাখীও। এর পরই প্রশ্ন ওঠে, বিচারাধীন ২ বন্দি অন্য এক বন্দির ঘরে কেন‌ও গিয়েছিলেন? কী আলোচনাই বা হল সেই বৈঠকে?

হাসপাতাল চত্বরে ধৃতদের অবাধ ঘুরে বেড়ানো বিষয়ে প্রশ্ন করতে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিতর্কিত বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের অদ্ভুত দাবি , একটা জিনিস দিতে সুব্রতবাবুর ঘরে গিয়েছিলেন তিনি।

এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলতে গিয়ে বৈশাখী দেবী জানিয়েছেন জানিয়েছেন, “আমার কাছে শোভনবাবু ও সুব্রতবাবুর ওকালতনামা ছিল। সেই ওকালতনামা দিতে গিয়েছিলাম। আর শোভনবাবুকে চিকিৎসক ২ বেলা হাঁটতে বলেছেন। উনি রোজই হাঁটেন।”

সুব্রত’র ঘরে ঢোকা নিয়ে বৈশাখীদেবীর যুক্তি, “বৈঠক করতে তো ৫ মিনিট সময় লাগে। ওখানে তো একজন ঢুকেছে অন্য জন বেরিয়েছে দেখা যাচ্ছে। তাহলে বৈঠক হবে কী করে?’ তবে শোভনের ঘরে মদনের ঢোকা নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটেন বৈশাখী।

আরও পড়ুন-মানুষ বাঁচুক আগে! করোনা রোগীদের জন্য আমিষ রান্না করে ১০৪ বছরের ধর্মীয় অনুশাসন ভাঙল ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ

তবে প্রশ্ন উঠছে, সুব্রতবাবু, শোভন ও মদনবাবু কোনও সাধারণ রোগী নন।  বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা বন্দি তিনজন‌ই। শুধুমাত্র একটা ওকালতনামা দিতে তিনজনের একসঙ্গে যাওয়ার কি প্রয়োজনীয় ছিল?

চার ধৃত নেতাকে গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।সমস্ত রকমের সরকারি কাজ বাড়িতে থেকে অনলাইনে করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ‌। কোন আমলা, আধিকারিক কেউই মন্ত্রীদের বাড়িতে যেতে পারবেন না। চার অভিযুক্তের বাড়ির রাস্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশের অমান্য হলে গৃহবন্দি থাকার সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও খবর।‌

আরও পড়ুন-কেঁদে তৃণমূল ছেড়ে ছিলেন, ‘আপনাকে ছাড়া বাঁচবো না’ বলে এবার ভগ্ন হৃদয় নিয়ে ফের মমতার দুয়ারে সোনালী গুহ!

ববি হাকিম ছাড়া এখন‌ও পর্যন্ত তিন অভিযুক্তের কেউ বাড়ি ফেরেননি। প্রত্যেক অভিযুক্তের সঙ্গে কে কে দেখা করছে তার নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার রাতে সুব্রতবাবুর সঙ্গে যে অন্য ২ অভিযুক্তের সাক্ষাতের কথাও নথিভুক্ত করা কি হবে?

RELATED Articles