ক্লাসরুমে সাধারণত পড়াশোনার পরিবেশই চোখে পড়ে। কিন্তু এবার সেই পরিচিত পরিবেশই বদলে গেল এক অস্বস্তিকর ঘটনার কারণে। এক শিক্ষকের আচরণ ঘিরে তৈরি হল তীব্র বিতর্ক, আর সেই মুহূর্তের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে এমন দৃশ্য অনেকের কাছেই ছিল অকল্পনীয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুরের (South Dinajpur) বালুরঘাট হাইস্কুলে (Balurghat High School) গত জানুয়ারির শেষ দিকে, একাদশ শ্রেণির ক্লাসরুমে। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, এক ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক প্রথমে কান ধরে উঠবস করছেন। তারপর এক ছাত্রীর সামনে নাকখত দিয়ে ক্ষমা চাইছেন। আরও দেখা যায়, তিনি দাঁড়াতেই ওই ছাত্রী তাঁকে চড় মারেন। সহপাঠীরাই নাকি পুরো ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করে। এই দৃশ্য সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
অভিযোগ, ওই শিক্ষক একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অশালীন মেসেজ ও কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিষয়টি ছাত্রী বাড়িতে এবং বন্ধুদের জানালে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে শিক্ষক ক্লাস নিতে এলে পড়ুয়ারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন বলেই দাবি। এরপরই ছাত্রীর সামনে ক্ষমা প্রার্থনা ও শাস্তিস্বরূপ কান ধরে ওঠবসের ঘটনা ঘটে। এমনও অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় শিক্ষক ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং ওপার থেকে কী করতে হবে, সে নির্দেশ পাচ্ছিলেন। এই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই স্কুলে আগে শুধুমাত্র ছাত্ররাই পড়াশোনা করত। প্রায় তিন বছর আগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ছাত্রী ভর্তি শুরু হয়। ফলে নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বালুরঘাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রীজিৎ সাহা জানান, “এখন পরীক্ষা চলছে। আমরা বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পরিচালন সমিতির এক সদস্যও বলেন, পরীক্ষা শেষ হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ Terror Att*ack :‘আজাদ কাশ্মীর’ পোস্টার থেকে জ”ঙ্গি নেটওয়ার্কের হদিস! তিরুপুরে অভিযান, বাংলায় লুকিয়ে সন্দেহভাজন—নাশ*কতা রুখল স্পেশ্যাল সেল!
অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষামহল ও অভিভাবক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে এমন অভিযোগ শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত ভুল নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার উপরই প্রশ্ন তুলে দেয়—এমনটাই মনে করছেন অনেকেই। এখন সকলের নজর, তদন্তে কী উঠে আসে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।





