তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অ্যাবাউটে লেখা তালিকাটা বড় অদ্ভুত। সবার উপরে লেখা আছে Bike Mechanic. আর ঠিক তার পরেই রয়েছে Record Holder at Guinness World Record এবং তারপর পরপর আরও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক খ্যাতির তালিকা। কিন্তু দিনের শেষে তিনি নিজেকে দাবী করেন একজন শিল্পী এবং একজন বাইক মেকানিক হিসেবেই।
তিনি প্রসেনজিৎ কর (Prasenjit Kar)। মেদিনীপুরের কেশপুরের এক চিত্রশিল্পী। মাইক্রো আর্টে (Micro Art) এই মুহূর্তে ভারতবর্ষের অন্যতম পরিচিত একটি নাম। দরিদ্র বাড়ির ছেলে প্রসেনজিৎ অর্থের অভাবে আর্ট কলেজে ভর্তি হতে পারেননি। কিন্তু মন থেকে সরাতে পারেননি তাঁর ছোটবেলার ভালবাসা চিত্রশিল্পকে। আর সেই জেদ থেকেই একটু অন্য ধরণের শিল্প সৃষ্টি করা শুরু করলেন প্রসেনজিৎ।
বাবা মুক্তিপদ কর মেদিনীপুরের খেতুয়া বাজারে একটি মোটর মেকানিকের দোকান চালান। ছেলে প্রসেনজিৎ সেই দোকানেই থাকেন, কাজ করেন সারাদিন। আর সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পরে রাত্রে তিনি চলে যান তাঁর নিজের জগতে। মা ছন্দা কর সাধারণ গৃহবধূ। বাবা মুক্তিপদ করের কথায়, “ছেলে ছোট থেকে কোনওদিন আঁকা শেখেনি। কিন্তু আঁকার শখ একদম ছোট বয়স থেকেই৷ তাই কাগজ পেন্সিল এনে দিতাম।” সেই শখকেই স্বপ্নে পরিণত করে ফেলেছেন নেতাজি মুক্ত বিদ্যালয় থেকে ইংরাজিতে স্নাতক প্রসেনজিৎ।
তাঁর সৃষ্ট শিল্পের ঝুলিটা বেশ বড়। কী নেই সেখানে, পেন্সিলের শিসে মাইক্রো আর্ট, মিনিয়েচার স্কাল্পচার, পালকের উপর পেইন্টিং, চক কার্ভিং, গাছের ছোট ছোট পাতায় ছবি আঁকা, এমনকী দেশলাই কাঠির উপরেও পেইন্টিং করেন প্রসেনজিৎ।
গত বছরেই পেন্সিলের শিসে দেশের ক্ষুদ্রতম দুর্গামুর্তি গড়ে India Book of Records এ নাম তুলে ফেলেছেন প্রসেনজিৎ। তারপর থেকেই পাখির চোখ করে নিয়েছিলেন গিনিজ বুকে নাম তোলাকে। দিনরাত ভাবতেন কীভাবে নাম তোলা যায় গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে (Guinness book of World record)। আর সেই চেষ্টাতেই একের পর সৃষ্টি করে গেছেন মাইক্রো আর্ট। অবশেষে স্বপ্নকে ছুঁতে পারলেন তিনি। একটা দেশলাই কাঠির মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক স্বাধীনতা সংগ্রামীর ছবি এঁকে নাম তুলে ফেলেন গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে।
প্রসেনজিতের আগামী দিনের পরিকল্পনা কী? তাঁর অকপট জবাব ‘কেবলমাত্র শিল্প সৃষ্টি করে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই চাহিদা নেই। প্রতি মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ করি নিজেকেই। নিজেকে নিজে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।’





