গতকাল, ২২ জানুয়ারি ভারতের ইতিহাসে ছিল এক অতি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে গোটা বিশ্ব। ৫০০ বছরের বনবাস কাটিয়ে অবশেষে নিজের জন্মভূমিতে ফিরেছেন রামচন্দ্র। অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে রামলালার। এই দিনটিকে ঘিরে দেশ-বিদেশের ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এরই মধ্যে এবার বাংলাতেও তৈরি হল রামমন্দির।
কোথায় তৈরি হল এই মন্দির?
অযোধ্যার রামমন্দির তৈরি হতে সময় লেগে গেল ৩ বছর। যদিও এখনও মন্দিরের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি। তবে বাংলায় কিন্তু মাত্র ১০ দিনেই তৈরি হয়ে গেল রামমন্দির। আর সেই মন্দির তৈরি করলেন চুঁচুড়ার অজয় প্রামাণিক।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
জানা গিয়েছে, চুঁচুড়ার পেয়ারাবাগানের জগন্নাথ বাড়ির তরফে রামমন্দিরের এক প্রতিরূপ বানানোর বরাত দেওয়া হয়েছিল এই অজয় প্রামাণিককে। সময় খুবই কম ছিল। শিল্পী জানান, তাঁর খুব ইচ্ছা ছিল সান বোর্ড দিয়ে তিনি রামমন্দির তৈরি করবেন। ফলে সেই বরাত পাওয়ায় দিনরাত এক করে মন্দির তৈরি করেছেন অজয় প্রামাণিক।
কী বললেন অজয় প্রামাণিক?
শিল্পীর কথায়, “দিন দশেক আগে অর্ডার পেয়েছি। এটা সান বোর্ডে তৈরি। ৬০ শতাংশ ফাইভার আর ৪০ শতাংশ কাগজে তৈরি এক ধরনের বোর্ড পাওয়া যায়। সেটা দিয়ে আদলটা তৈরি করা হয়েছে। এরপর রং করা হয়েছে। ছবি দেখেই বানানোর চেষ্টা করেছি”।
জানা গিয়েছে, এর আগেও অনেক স্থাপত্যের রেপ্লিকা বানিয়েছেন অজয় প্রামাণিক। তাঁর বানানো নানান রেপ্লিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- চুঁচুড়ার ঘড়ির মোড়ের ঘড়ি, ব্যান্ডেল চার্চ, ষণ্ডেশ্বরতলা মন্দির। তিনি জানান, “এর আগেও অনেক কিছুই বানিয়েছি। গৌড়ীয় মঠ, ব্যান্ডেল চার্চ, ইমামবাড়া অনেক কিছুই বানিয়েছেন এর আগে”। যখন যেমন বরাত আসে, সেইমতোই প্রতিরূপ তৈরি করেন অজয়।
অজয় প্রামাণিক জানান, রামমন্দির বানানোর ইচ্ছা ছিল তাঁর খুবই। ফলে যখন এই বরাত আসে, তখন খুবই খুশি মনে তা বানানো শুরু করে তিনি। গতকাল, সোমবার যখন জগন্নাথ বাড়ির তরফে রামমন্দির নিতে আসা হয়, তখনও মন্দিরে রঙ করার কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে সেই রামমন্দির নিয়ে শোভাযাত্রা শুরু করেন সকলে।
কোনও পারিশ্রমিক নয়
এই রামমন্দির বানানোর জন্য কোনও পারিশ্রমিক নেন নি অজয় প্রামাণিক। তাঁর কথায়, “যেহেতু রাম মন্দিরের ব্যাপার তাই আমি টাকা নিইনি। আমারও ইচ্ছা ছিল এটা বানানোর। তাই বানালাম। পারিশ্রমিক প্রায় নিইনি বললেই চলে”।





