ভারতের রাজনীতি বরাবরই দ্বিমুখী— জাতীয় স্তরে বিজেপি (BJP) শক্তিশালী হলেও বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলির আধিপত্য দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ২০১১ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকলেও বিজেপি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়ে এখানে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরলেও বিজেপি নিজেদের উপস্থিতি ধরে রেখেছে। তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন ও ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় নেতাদের সঙ্গে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে মূলত ভোটার তালিকা সংশোধন, বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, কিছু পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন হতে পারে। তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনেও ইতিমধ্যে রদবদল হয়েছে। এছাড়া, মমতা স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘‘২০২৬ সালে আবার খেলা হবে। তাই এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’’
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে বিজেপি পঞ্জাব ও হরিয়ানার বহু লোকের নাম বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি দিল্লি থেকে ষড়যন্ত্র করছে, আর নির্বাচন কমিশনের মদতেই এই কারচুপি সম্ভব হচ্ছে।’’ দলের কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘‘প্রত্যেক বুথে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের দফতরে ধর্নায় বসতে হবে।’’ তাঁর দাবি, এই ধরনের কারচুপি বন্ধ করতে তৃণমূল মাঠে নামবে।
আরও পড়ুনঃ দলে থেকেই ‘চোর-ডাকাত’ তকমা! মহুয়ার নিশানায় কারা, নতুন বিতর্কে তৃণমূল!
মমতা বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘ভোট এলেই ওরা ঠিক করে, কাকে জেলে ঢোকাবে, কাকে চোর বলবে! বাংলার মানুষ সব দেখছে, ওদের উপযুক্ত জবাব দেবে।’’ তিনি বিজেপিকে ‘গেরুয়া কমরেড’ বলেও কটাক্ষ করেন। তাঁর মতে, ‘‘মহারাষ্ট্র-দিল্লিতে বিজেপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বাংলায় তা হবেই। ২০২৭ থেকে ২০২৯-এর মধ্যে বিজেপি শেষ হয়ে যাবে।’’ বিজেপির তরফে অবশ্য এই মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করতে চাইছে। দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি বুথ স্তরে শক্তি বাড়াতে হবে। মমতা বলেন, ‘‘ভোটার তালিকা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে প্রচার কৌশল বদলানো— সবকিছুই এখন আমাদের অগ্রাধিকার।’’ নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, তৃণমূল এবার মাঠের লড়াই শুরু করে দিয়েছে, যেখানে মূল লক্ষ্য বিজেপিকে প্রতিরোধ করা এবং ২০২৬-এ আবার ক্ষমতায় ফেরা।





