পশ্চিমবঙ্গের (west bengal) রাজনীতি(politics) বরাবরই উত্তপ্ত। নির্বাচনের আবহ হোক বা দলীয় কোন্দল, রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংঘাত আরও বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষের ছবি উঠে আসছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আবার একই সঙ্গে শাসক দলের অন্দরেও চলছে টানাপোড়েন। এই দলীয় কোন্দল কখনও প্রকাশ্যে আসছে, কখনও বা থেকে যাচ্ছে পর্দার আড়ালে। তবে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।
রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা শুধুমাত্র তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে যেমন বিরোধীরা শাসক দলকে আক্রমণ শানাচ্ছে, তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও কোন্দল প্রকাশ্যে আসছে। প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত— সব মিলিয়ে শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে দলের ভেতরে কেউ কেউ সরব হচ্ছেন, কেউ আবার নীরব থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সম্প্রতি নদিয়া জেলার এক কর্মিসভায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিস্ফোরক মন্তব্য সেই দলীয় কোন্দলেরই আরও এক প্রতিফলন।
বুধবার নদিয়ার পলাশিপাড়ায় এক কর্মিসভায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সভায় দাঁড়িয়ে নাম না করে দলেরই এক বিধায়ককে চোর-ডাকাত বলে কটাক্ষ করেন তিনি। মহুয়ার এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যাঁর বিরুদ্ধে তিনি এই আক্রমণ শানিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে, তিনি হলেন পলাশিপাড়ার বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। এক সময় তৃণমূলের শক্তিশালী নেতা হিসেবে পরিচিত মানিক বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। মহুয়া মৈত্র তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘‘আমি কোনও দিন কাউকে এভাবে বলিনি, কিন্তু আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি। যারা চুরি করেছে, যারা দলকে কালিমালিপ্ত করেছে, তারা এখন এলাকায় ঢুকে ভোটের প্রচার করবে, আর আমরা মেনে নেব?’’
আরও পড়ুনঃ স্টেশনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা! হঠাৎ থমকে গেল ট্রেন পরিষেবা!
তৃণমূল সাংসদের বক্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। তিনি সেখানে আরও বলেন, ‘‘এরা শুধু চোর নয়, ডাকাত! এরা পকেটমার নয়, ওর বউ চোর, ছেলে চোর, চোদ্দোগুষ্টি চোর!’’ মহুয়ার এই মন্তব্য ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। এক সময় জেলার একাধিক বিধায়ক তাঁর বিরোধিতায় সরব হয়েছিলেন। এবার সেই দলীয় কোন্দল আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।
বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য প্রথমে এ নিয়ে মন্তব্য করতে না চাইলেও পরে বলেন, ‘‘এত দিন বিরোধীরা এই অভিযোগ করছিল, এবার দলের একজন সেটা করলেন!’’ অন্যদিকে, তৃণমূলের সংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান এই প্রসঙ্গে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘‘যিনি বলেছেন, ব্যাখ্যা দেওয়ার দায় তাঁর।’’ মহুয়ার বিস্ফোরক মন্তব্যের পর দল কী অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।






