লোকসভায় ভরাডুবির পর সেই আস্থা পুরনোতেই, রাজ্যের ৪ কেন্দ্রে বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা বিজেপির

BJP Announced Candidates for Assembly By-Election: লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। ৩০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিলেও ২০তেও পৌঁছয় নি গেরুয়া শিবির। ১২তেই আটকে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপির জয়ের রথ। এমন আবহে এবার আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল বিজেপির কাছে। তবে অবশেষে রাজ্যের চার বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল গেরুয়া শিবির (BJP Announced Candidates for Assembly By-Election)

বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, মানিকতলা কেন্দ্রে আগের বারের মতোই প্রার্থী হবেন কল্যাণ চৌবে। বাগদা কেন্দ্রে প্রার্থী হচ্ছেন বিনয়কুমার বিশ্বাস। রায়গঞ্জ কেন্দ্রের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে মানসকুমার ঘোষকে আর রাণাঘাট দক্ষিণ থেকে বিজেপি প্রার্থী করেছে মনোজকুমার বিশ্বাসকে।

লোকসভা নির্বাচনের ভুল আর পুনরাবৃত্তি করতে চায় না গেরুয়া শিবির, তা বেশ স্পষ্ট প্রার্থী তালিকা বাছাই দেখেই। সেই পুরনোদের উপরেই এবার বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য ভরসা রাখল বিজেপি। মানিকতলা থেকে যে কল্যাণ চৌবেই প্রার্থী হচ্ছেন, তা আগেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। বাগদা কেন্দ্রে শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমার নাম উঠে এলেও তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, তাঁকে নিয়ে দলের অন্দরে বেশ অসন্তোষ ছিল।

অন্যদিকে, রাণাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রের জন্য মনোজকুমার বিশ্বাস আর রায়গঞ্জ কেন্দ্রের জন্য মানসকুমার ঘোষের নাম নিয়ে বেশ জল্পনা ছিল। অবশেষে সেই জল্পনাতেই পড়ল সিলমোহর। লোকসভা ভোটে বঙ্গে বিজেপির ফলাফল খারাপ হওয়া কারণেই এবার আদি নেতৃত্বের উপরেই ভরসা রাখল বিজেপি। আগামী ১০ জুলাই ভোট রয়েছে এই চার কেন্দ্রে।

বলে রাখি, ২০২২ সালে মৃত্যু হয় মানিকতলার তৃণমূল বিধায়ক সাধন পাণ্ডের। ফলে এরপর থেকেই ওই বিধানসভা কেন্দ্র বিধায়কবিহীন। ফলে উপনির্বাচন হবে ওই কেন্দ্রে। এদিকে আবার একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ থেকে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। জয়ীও হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। লোকসভা ভোটের প্রার্থী হন। ফলে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। ফলে ওই আসনেও নেই কোনও বিধায়ক। ফলে ওই আসনেও উপনির্বাচন।

আবার, আবার রাণাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক ছিলেন মুকুটমণি অধিকারী। বিজেপির টিকিটে গত বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে জিতেছিলেন তিনি। তবে চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। ফলে সেই বিধানসভা কেন্দ্রও বিধায়কহীন। সেই কারণে রাণাঘাট দক্ষিণে হবে উপনির্বাচন।

আর বাগদার আগের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। লোকসভা নির্বাচনে লড়ার জন্য বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। সেই কারণে সেখানে এবার উপনির্বাচন। আগামী ১৩ জুলাই এই উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হবে বলে জানা গিয়েছে। 

RELATED Articles