আসন্ন বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে পাহাড়ের রাজনীতি। ইতিমধ্যেই, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতা বিনয় তামাং ঘোষণা করেছেন যে এবারের নির্বাচনে বিমল গুরুং গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনওরকম্র জোট না করেই লড়বে তারা। শুধু বিমল গুরুং-ই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও সরাসরি কোনও জোট করে লড়ার ইচ্ছা নেই বলেই জানিয়েছেন বিনয় তামাং। এর জেরে বেশ কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে শাসকদল।
অন্যদিকে, বিমল গুরুং-এর শিবিরও পাহাড়ের আসনগুলিতে আলাদা লড়ার কথা ঘোষণা করেছে। আগামী ২৩শে মার্চ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিনয় তামাং। দার্জিলিং, কালিম্পং, ও কার্শিয়াংয়ে সলের সংগঠকদেরই প্রার্থী করেছে বিনয় তামাং। এই দুই যুযুধান পক্ষের লড়াইয়ের সুযোগ নিচ্ছে গেরুয়া শিবির।
পাহাড়ের রাজনীতিতে বিজেপিকে একরকম চাপে ফেলতেই বিমল গুরুংকে ফিরিয়ে এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এমন করে খুব একটা লাভ হয়নি। কারণ বিমল গুরুং-এর অবস্থান মানতে নারাজ বিনয় তামাং শিবির। ফলে মোর্চার অন্দরেই তৈরি হয়েছে ফাটল। তৃণমূল এবারে পাহাড়ের ৩ আসনে কোনও প্রার্থী দেয়নি। তারা ঠিক করে মোর্চার সঙ্গেই জোট হবে। কিন্তু গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এখন নিজেরাই দ্বিধাবিভক্ত। বলে রাখি, দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র কিন্তু এখন বিজেপির দখলে। পাহাড়ের রাজনীতিতে বিজেপি নেতা মন ঘিসিং ও প্রাক্তন জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বার মতো নেতা বিজেপিতে আসায় বিজেপির শক্তি বেড়েছে।
আরও পড়ুন- সরকারী চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ থেকে বিনামূল্যে বাসযাত্রা, মহিলাদের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি বিজেপির
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শেই বিমল গুরুংকে ফিরিয়ে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই কৌশল আদৌ কাজে লেগেছে কী না, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। কারণ মোর্চার অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দের সুযোগ নিতে বেশ কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে গেরুয়া শিবির। এবার পাহাড়ি রাজনীতিতে কোন দলের জয় হয়, এখন সেটাই দেখার।





