আজ একুশে জুলাই। তৃণমূলের শহীদ দিবস। প্রতিবছর এই দিনটাতে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় বিশাল এক সভার। সারা রাজ্যের তৃণমূল সমর্থকও সদস্যরা যোগ দেন সেই সভায়, কলকাতা প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এই দিনটাতে। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা গিয়েছে যে এই দিনটাতে শহীদদের যত না স্মরণ করা হয় তার থেকে বেশি দলীয় প্ল্যান-প্রোগ্রাম ঠিক করার সমাবেশ হবেই এই দিনটি ‘ব্যবহার’ করা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে। দুপুরবেলা সমস্ত আগত কর্মী ও সমর্থককে ডিম-ভাত খাওয়ানোর ‘সুযোগ’ এর জন্য এই দিনটাকে অধিকাংশ মানুষই ‘ডিম-ভাত’ দিবস বলে কটাক্ষ করে থাকেন।
এবার এই একই কথা বললেন বিজেপির শীর্ষ যুবনেতা অনুপম হাজরা। তিনি আজ একটি ভিডিও বার্তায় জানালেন যে কীরকম ভাবে তৃণমূল এই শহীদ দিবস ‘উদযাপন’ করে থাকে। তাঁর কথায়, আমি তো তৃণমূলে ছিলাম বেশ কিছুদিন, তাই দু-একবার আমি এই সমাবেশে যোগ দিয়েছিলাম। সেখানেই আমি দেখেছি কিভাবে তৃণমূল শহীদ দিবস পালন করে থাকে।
শহীদ দিবসের প্রথম সারিতে থাকেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা, তার পরের সারিতে দিদির ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরা, তার পরের সারিতে এমপি এবং এমএলএ রা। শহীদদের পরিবারের ঠাঁই হয় পিছনের মঞ্চে। গোটা অনুষ্ঠানে চলে গান বাজনা। শহীদদের নিয়ে কোনওরকম কথা এই অনুষ্ঠানে থাকে না। অভিনেতা, অভিনেত্রী ও গায়ক-গায়িকাদের দেখার জন্যই মূলত গ্রাম থেকে আসেন তৃণমূল কর্মী ও সদস্যরা এবং এটাকে একদিনের কলকাতা ভ্রমণও বলা যায়। প্রায় সাত মিনিটের এই ভিডিওবার্তায় এই কথাগুলোই বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছেন অনুপম বাবু।
সেই সঙ্গে তিনি এও বলে দিয়েছেন যে, এই বছরই তৃণমূলের এটা শেষ শহীদ দিবস অথবা এটাকে ডিম-ভাত দিবসও বলা যেতে পারে। তিনি ভীষণ দ্বিধাবিভক্ত যে এই দিবসটিকে উনি এখন ঠিক কী আখ্যা দেবেন কিন্তু পরের বছর একুশে জুলাই শহীদ দিবস হিসাবে এই রাজ্যে আর পালন হবে না কারণ রাজ্যে আগামী বছর বিজেপিই ক্ষমতায় আসছে।





