বাংলার মসনদ জেতার লড়াই জমে উঠেছে। আজ ১৮ই জানুয়ারি নন্দীগ্রাম ও দক্ষিণ কলকাতায় বিপরীত গড়ে নিজেদের শক্তি বুঝে নিতে নেমেছিল পশ্চিমবঙ্গের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিজেপি ও তৃণমূল।
আজ যখন নন্দীগ্রামে নিজের শক্তি জাহির করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক তখনই দক্ষিণ কলকাতায় মমতার খাস গড়ে নিজের ক্ষমতা বোঝান শুভেন্দু অধিকারী।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দু’র দলবদলের পর এই প্রথম নন্দীগ্রামে পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূলী রাজনীতি থেকে এখন অনেকটাই দূরে সরে গেছে অধিকারী পরিবার। শুভেন্দু পরবর্তী মেদিনীপুরে তৃণমূলের আধিপত্য ঠিক কতটা বহাল রয়েছে তা বুঝে নিতেই আজ নন্দীগ্রাম থেকে শক্তি প্রদর্শন করার চেষ্টা করেন তিনি।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আধিপত্য যে ঠিক কতটা সেই বিষয়ে যথেষ্টই অবগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাই অন্য কোনও নেতা নয় স্বয়ং নিজেকে আজ নন্দীগ্রামের পদপ্রার্থী বলে ঘোষণা করে দেন তিনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই নন্দীগ্রাম থেকেই তৃণমূলের উত্থানের শুরু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মসনদে বসাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল নন্দীগ্রাম।
আর আশঙ্কার ২১শে সেই নন্দীগ্রাম থেকেই নির্বাচন লড়ার ঘোষণা করলেন মমতা। তবে একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন, ভবানীপুর থেকেও তিনিই প্রার্থী হতে পারেন। অর্থাৎ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের দু’দুটি আসনের মুখ তিনিই।
মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ঘোষণাকেই এবার তীব্র কটাক্ষ করেছেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়।
তৃণমূল সুপ্রিমো’র সিদ্ধান্তের পাল্টা কটাক্ষ করে, তিনি দাবি করেন, ‘এক জায়গায় নির্বাচনে দাঁড়ালে হেরে যেতে পারেন তাই উনি আর একটা জায়গা খুঁজছেন।’ একই সঙ্গে বঙ্গ রাজনীতির এই দুঁদে নেতার দাবি, ‘নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর সব আন্দোলনেই তিনি ছিলেন আর তাঁর কৃতিত্ব নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগামী ৩০শে জানুয়ারি মতুয়াগড় ঠাকুরনগরে সভা করতে আসবেন বিজেপির চাণক্য অমিত শাহ্। আর তার আগে সোমবার ঠাকুরবাড়িতে পা রাখেন বিজেপি–র সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোরা। এদিন দুপুর ১টা নাগাদ ঠাকুরবাড়িতে এসে প্রথমে ঠাকুর হরিচাঁদ গুরুচাঁদের মন্দিরে যান। তার পর সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক করে বিজেপি নেতৃত্ব। ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন যে মাঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসবেন সেই মাঠ পরিদর্শন করেন তাঁরা।





