রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তিনি। এর জেরে গোটা দলে এক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ, দল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয় হাওড়া সদরের বিজেপি সভাপতিকে। ঠিকই ধরেছেন, কথা হচ্ছে সুরজিৎ সাহাকে নিয়েই। এবার তিনি যোগ দিচ্ছেন ঘাসফুল শিবিরে।
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ঠিক কী বলছিলেন সুরজিৎ?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে বিজেপির এক বৈঠকে দলের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবী করেছিলেন যে দলের কেউ কেউ গোপনে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এরপর শুভেন্দুকে নিশানা করে সুরজিৎ বলেন যে কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তা শুভেন্দুকে প্রমাণ করতে হবে। তিনি শুভেন্দুকে তোপ দেগে নারদ কাণ্ডে টাকা নেওয়ার কথা বলেন ও এও বলেছিলেন যে শুভেন্দুকে নিজের সততা প্রমাণ করতে হবে।
সেই ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পরই দল থেকে বহিষ্কৃত করা হয় সুরজিৎ সাহাকে। এবার তিনি নিজেকে তৈরি করছেন মমতা সৈনিক হিসেবে। শোনা যাচ্ছে, আগামীকাল, বৃহস্পতিবার হাওড়ার শরৎ সদনে এসসি-এসটি সেলের আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানেই তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেবেন সুরজিৎ সাহা।
আজ, বুধবার রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী অরূপ রায় এই বিষয়ে বলেন, “বৃহস্পতিবার শরৎ সদনে এক অনুষ্ঠানে সুরজিত্ সাহা তৃণমূলে যোগ দেবেন। কিছুদিন আগেই তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। এরপর এনিয়ে দলের অনুমতি নেওয়া হয়। তারপরেই যোগদানের বিষয়টি ঠিক হয়েছে”।
অন্যদিকে, এ নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুরজিৎ সাহা বলেন, “অনুগামীদের নিয়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছি। সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতারা আমাকে অপমান করেছে। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বিজেপি করছি। বিজেপি এখন শুভেন্দু অধিকারির দল হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজে অনুপ্রাণিত হয়েই তৃণমূলে যোগ দিচ্ছি। আশা করছি এবার আরও কাজ করার সুয়োগ পাব”।
বলে রাখি, কিছুদিন আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন হাওড়া পুরসভার বাম পৌরবোর্ডের প্রাক্তন মেয়র ও সিপিএম নেত্রী মমতা জসওয়াল। অরূপ রায়ের কথায় বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় দল আরও মজবুত হচ্ছে।
অন্যদিকে, সুরজিৎ সাহার তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে বিজেপি হাওড়া সদরের কনভেনার মণি মোহন ভট্টাচার্য বলেন, “এতদিনে প্রমাণিত হল যে সুরজিৎ তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন”।





